যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ‘ঐতিহাসিক’ পরমাণু চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন। চুক্তিটি কার্যকর হলে আগামী ৩০ বছর ধরে সৌদি আরবের বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচিতে প্রযুক্তি, উপকরণ ও কারিগরি সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এর বিনিময়ে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েক হাজার কোটি ডলার প্রদান করবে।
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চুক্তির খসড়া যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে উত্থাপন করা হবে। কংগ্রেসের দুই কক্ষ—হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেটে অনুমোদন পেলে চুক্তিটি কার্যকর হবে। খসড়ার সঙ্গে ‘১২৩ এগ্রিমেন্ট’ নামে একটি নথিও পাঠানো হবে, যা বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু সহযোগিতার আইনি কাঠামোর অংশ।
চুক্তি কার্যকর হলে সৌদি আরবের বেসামরিক পরমাণু শক্তি খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
তবে ট্রাম্প অনুমোদিত এই চুক্তিতে বহুল আলোচিত ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ নীতি রাখা হয়নি। ফলে সৌদি আরব চাইলে চুক্তির আওতায় থেকেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানির পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
এ ছাড়া চুক্তিতে ‘অতিরিক্ত প্রটোকল’ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সাধারণত এই নীতির আওতায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) যে কোনো সময় সংশ্লিষ্ট দেশের পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ পায়। অধিকাংশ বেসামরিক পরমাণু চুক্তিতে এ ধরনের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
চুক্তির খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব দ্বিপাক্ষিকভাবে নির্ধারণ করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কংগ্রেসে চুক্তিটি অনুমোদিত হলে ইউরেনিয়াম সংগ্রহ ও সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের সামনে বড় ধরনের সুযোগ তৈরি হবে। তবে কঠোর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে এটি ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এর আগেও একাধিকবার বলেছেন, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তবে সৌদি আরবও নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নেবে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রধান দুটি ধাপ হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং প্লুটোনিয়াম পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ বেসামরিক পারমাণবিক চুল্লির জন্য কঠোর আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমদানি করে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া অভ্যন্তরীণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, রয়টার্স, ইন্ডিয়া টুডে।