স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে পারেন না ৬ কোটি ৭৮ লাখ বাংলাদেশি: জাতিসংঘ

অনলাইন ডেস্ক

জাতীয়

বাংলাদেশে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য এখনও লাখো মানুষের নাগালের বাইরে। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় দুজনেরই স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই।

2026-07-22T19:17:47+00:00
2026-07-22T19:17:47+00:00
  বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬,
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে পারেন না ৬ কোটি ৭৮ লাখ বাংলাদেশি: জাতিসংঘ
অনলাইন ডেস্ক
বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৭:১৭ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য এখনও লাখো মানুষের নাগালের বাইরে। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় দুজনেরই স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই। জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থার যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে দেশের প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ, যা মোট জনসংখ্যার ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ, স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান পাকিস্তানের পর দ্বিতীয়, যা দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থার যৌথভাবে প্রকাশিত 'দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬' শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা বলতে প্রতিদিন একজন মানুষের প্রয়োজনীয় প্রায় ২ হাজার ৩৩০ কিলোক্যালরি শক্তি সরবরাহ করতে সক্ষম এমন খাদ্যকে বোঝানো হয়েছে। এতে শর্করা, প্রাণিজ আমিষ, শুঁটি জাতীয় খাদ্য, বাদাম ও বীজ, শাকসবজি, ফলমূল এবং তেল-চর্বিসহ ছয়টি খাদ্যগোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রতিবেদনটি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ), ইউনিসেফ, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্যহীন মানুষের হার সবচেয়ে বেশি পাকিস্তানে, ৬৩ শতাংশ। বাংলাদেশে এ হার ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে ২০১৭ সালের তুলনায় এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। সে সময় দেশে ৬২ দশমিক ৮ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১০ কোটি ১৮ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য ছিল না।

বিশ্বব্যাপী ২০২৫ সালে প্রায় ২৬৯ কোটি মানুষ, অর্থাৎ ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য ছিল না। আফ্রিকায় এ হার সবচেয়ে বেশি ৬৬ দশমিক ৬ শতাংশ। এরপর রয়েছে এশিয়া (২৮ দশমিক ৯ শতাংশ) এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল (২৫ দশমিক ৭ শতাংশ)।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে একজন মানুষের প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাদ্যের গড় ব্যয় ২০১৭ সালের ৩ দশমিক ৯ ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৪ দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছেছে। এ ব্যয়ের বড় অংশই প্রাণিজ আমিষ, ফলমূল ও শাকসবজি কেনার পেছনে ব্যয় হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যের দৈনিক ব্যয়ের দিক থেকে ভুটান ও শ্রীলঙ্কার পরেই বাংলাদেশের অবস্থান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন বলেন, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এখনও স্বাস্থ্যকর খাদ্য অনেকটাই নাগালের বাইরে। বিশেষ করে দুধ, দুগ্ধজাত পণ্য, মাছ, মাংস ও ফলের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্য কিনতে পারছে না।

স্বাস্থ্যকর খাদ্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে প্রতিবেদনে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার ব্যয় কমানো, পরিবহন ও সংরক্ষণ সুবিধা উন্নত করা, বাজারব্যবস্থা আধুনিক করা এবং খাদ্যের অপচয় কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: