হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় নির্মাণাধীন ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও মডেল মসজিদ প্রকল্পে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগের সত্যতা প্রাথমিকভাবে পেয়েছে তদন্ত কমিটি। সরেজমিন পরিদর্শন শেষে তদন্ত দলের প্রধান জানান, অধিকাংশ স্থানে ত্রুটি ধরা পড়েছে এবং ইতোমধ্যে ঠিকাদারকে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে দীর্ঘ বিলম্বে কাজ শেষ না হওয়ায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে সিলেট বিভাগীয় গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ওয়াসিফ আহমাদের নেতৃত্বে তদন্ত দল নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ পরিদর্শন করে। এ সময় সিলেট সার্কেলের গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী দীপ্ত সরকার এবং হবিগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রেজাউল বারী তুহিন উপস্থিত ছিলেন।
তদন্ত দলের প্রধান কাজী ওয়াসিফ আহমাদ ভোরের ডাককে বলেন, স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন পত্রিকায় অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের সংবাদ প্রকাশের পরই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সরেজমিন পরিদর্শনে এসে নির্মাণকাজের অধিকাংশ স্থানে ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত যে কাজ হয়েছে তা সন্তোষজনক নয়।
তিনি জানান, প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টিবিইএল-আইসি এমসিএল (জেবি)-কে গত ২৪ জুন ২০২৬ তারিখে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সন্তোষজনক অগ্রগতি না হলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গণপূর্ত বিভাগের নোটিশ সূত্রে জানা যায়, ২ মে ২০২৪ তারিখে কার্যাদেশ পাওয়ার পর ঠিকাদারকে ১২ মাসের মধ্যে, অর্থাৎ ২৩ জুলাই ২০২৫ সালের মধ্যে কাজ শেষ করে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে আরও ১৬ মাস অতিবাহিত হলেও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি।
হবিগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রেজাউল বারী তুহিন জানান, আগামী ২৩ জুলাইয়ের পরও কাজ সম্পন্ন না হলে সময়সীমা অতিক্রমের কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের সুপারিশ করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ইতোমধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ঠিকাদার হেমায়েত হোসেন দাবি করেন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রেজাউল বারী তুহিন এবং তার ব্যবসায়িক অংশীদার এটিএম ফয়জুল করিমের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির জেরেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তার অভিযোগ, যথাযথভাবে নোটিশ না দিয়ে তাদের বিপাকে ফেলা হয়েছে।
তিনি জানান, ২১ জুলাই চূড়ান্ত নোটিশের জবাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। জবাবে নির্মাণকাজের ত্রুটিগুলো সংশোধন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ এখনও তাদের কাজে সন্তুষ্ট নয় বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলায় প্রকল্পটি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দেশের অধিকাংশ মডেল মসজিদের কাজ শেষ হলেও লাখাইয়ের প্রকল্পটি এখনও অসম্পূর্ণ থাকায় দ্রুত নির্মাণ শেষ করে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।