২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে নতুন চারটি বই যুক্ত করার পাশাপাশি ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নতুন বিষয়বস্তু দিয়ে পুনর্গঠন করা হচ্ছে।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ নামে চারটি নতুন বই অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ২০২৭ সালের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে সংশোধিত ও নতুন বই পৌঁছে দিতে বর্তমানে পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু বলেন, দুই শ্রেণিতে নতুন চারটি বই যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এনসিটিবি জানায়, চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ বইয়ে সাতটি খেলার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আর ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইয়ে শিশুদের সাংস্কৃতিক বিকাশ, মূল্যবোধ, খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং ডিজিটাল আসক্তি কমানোর বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হবে।
অন্যদিকে ষষ্ঠ শ্রেণির ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বইটি শিক্ষার্থীদের আনন্দের সঙ্গে শেখার পরিবেশ তৈরি করবে। পর্যায়ক্রমে এটি অন্যান্য শ্রেণিতেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির আইসিটি বই প্রায় সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। নতুন সংস্করণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, মিডিয়া লিটারেসি, সাইবার নিরাপত্তা এবং ক্লাউড কম্পিউটিংসহ সময়োপযোগী বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এনসিটিবি জানিয়েছে, ২০২৭ সালের বই সংশোধনের কাজ চললেও ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে আরও বড় পরিসরে শিক্ষাক্রম সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজন হলে সম্পূর্ণ নতুন কারিকুলামও প্রণয়ন করা হবে।
এর আগে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন জানান, ২০২৭ সালের কারিকুলাম পরিমার্জন এবং ২০২৮ সালে নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া রোধে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ প্রথমবারের মতো জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।