গবেষণার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করে তুলতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন খাতে ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকার বেশি অনুদান ও প্রণোদনা দিয়েছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ অ্যান্ড ট্রান্সফার সেলের উদ্যোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ের গবেষণা কার্যক্রমে এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে Q1 জার্নালে ৬৩টি এবং Q2 জার্নালে ২৩টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এসব গবেষণাপত্র প্রকাশে উৎসাহ দিতে শিক্ষার্থীদের Q1 জার্নালে প্রকাশিত প্রতিটি গবেষণাপত্রের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং Q2 জার্নালের জন্য ৩০ হাজার টাকা করে মোট ২৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিযোগিতামূলক রিসার্চ গ্রান্ট ফর টিচার্স কর্মসূচির আওতায় ৬৮ জন শিক্ষককে বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মোট ১ কোটি ৯৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট (RA) হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা মাসিক ৪ হাজার টাকা এবং মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা মাসিক ৫ হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী গবেষণাকে উৎসাহিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেশন প্রজেক্ট কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত ২৩ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপনে উৎসাহ দিতে ৬৬ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা প্রণোদনাও দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিনিয়োগ শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং একটি শক্তিশালী গবেষণা-সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। গবেষণা সহকারীদের সম্মানী প্রদানের উদ্যোগও প্রশংসনীয়।
রিসার্চ অ্যান্ড ট্রান্সফার সেলের পরিচালক ড. লোকমান আলী বলেন, সীমিত গবেষণা তহবিলকে সর্বোচ্চ কার্যকরভাবে ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শক্তিশালী গবেষণা-সংস্কৃতি গড়ে তুলতে তারা কাজ করছেন। গত এক বছরে গবেষণাসংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন ও রিজেন্ট বোর্ডের অনুমোদনের মাধ্যমে গবেষণা কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করা হয়েছে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে স্নাতক, মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা আরও সক্রিয়ভাবে গবেষণায় অংশ নিতে পারেন।