চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. মাহবুবের রহমান শামীম সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘কাজের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে আমি আপস করব না।’ একই সঙ্গে তিনি প্রায় ৩৭ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জনগণের আরও কাছাকাছি থেকে জেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকার করেন।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত পরিচিতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে রোববার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে তিনি যোগদান করেন।
পরিচিতি সভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, জনগণের কল্যাণে কাজ করাই হবে জেলা পরিষদের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য সবাইকে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে জেলা পরিষদ পরিচালনা করতে চাই। কাজের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে আমি আপস করব না।
রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের আরও কাছাকাছি গিয়ে জেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই। জেলার প্রতিটি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, আমি এখানে নতুন হলেও আপনারা অভিজ্ঞ। আপনাদের সহযোগিতা নিয়েই কাজ করতে চাই। কোনো সমস্যা বা প্রয়োজন হলে সরাসরি আমার সঙ্গে কথা বলবেন। এমন কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা হবে, যেখানে সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
জেলা পরিষদের সীমিত বাজেটের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে বরাদ্দ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং ভবিষ্যতে জেলা পরিষদের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
পরিচিতি সভায় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম, নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার ইখতেখার উদ্দীন আরফাত, ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী মো. এস এম খালেদ উদ্দীন জামান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আনিছ উদ্দীন ভূঞাসহ জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।