গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় নাশকতার পরিকল্পনা, মহাসড়ক অবরোধ, বিএনপি নেতাকে মারধর এবং মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ১২০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে কাশিয়ানী থানায় মামলাটি করেন উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের ধানকোড়া গ্রামের বাসিন্দা ইমদাদুল হক। তিনি হাজী কায়েম উদ্দিন ফকিরের ছেলে এবং রাতইল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৪ জুলাই বিকেলে উপজেলার তিলছড়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে যান চলাচলে বাধা দেন এবং পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কর্মসূচি পালন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে জনমনে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ওই সময় মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বাদী ইমদাদুল হক ও তার এক সঙ্গীর ওপর হামলা চালানো হয়। তাদের মারধরের পাশাপাশি ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে মুকসুদপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাফিছুর রহমান বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ, যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি, বিএনপি নেতাদের মারধর এবং মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
তিনি জানান, এ ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।