বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে স্পেন। তবে ম্যাচে লামিন ইয়ামালের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি গ্যালারিতে থাকা তার তিন বছর বয়সী ছোট ভাই কেইনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
সোফাই স্টেডিয়ামে ক্যামেরা যখনই গ্যালারির দিকে ঘুরেছে, তখনই ছোট্ট কেইনের হাসি, উচ্ছ্বাস আর দুষ্টুমিভরা অভিব্যক্তি দর্শকদের নজর কেড়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় তার ভিডিও।
কেইনের জন্ম ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে, ইয়ামালের মা শিলা এবানার ঘরে। দুই ভাইয়ের মা এক হলেও তাদের বাবা ভিন্ন। ফলে ইয়ামাল ও কেইনের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরেরও বেশি।
ইয়ামাল যখন ছোট ছিলেন, তখনই তার বাবা-মা আলাদা হয়ে যান। তিনি মূলত স্পেনের গ্রানোইয়ার্সে মায়ের কাছেই বেড়ে ওঠেন। পরে তার মা পুনরায় বিয়ে করলে জন্ম হয় কেইনের।
এই দীর্ঘ বয়সের ব্যবধান ইয়ামালকে তার ছোট ভাইকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক শৈশব উপভোগ করতে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। নিজের শৈশবের কথা স্মরণ করে ইয়ামাল বলেন, ‘আমি এমন একটি ঘর থেকে এসেছি যেখানে রান্নাঘর আর শোবার ঘর একই জায়গায় ছিল। আজ আমি আমার মাকে সুখী দেখছি। আমি দেখছি আমার ভাই সেই শৈশবটা পাচ্ছে, যা আমি নিজে পেতে চেয়েছিলাম। আর এটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়।’
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ হওয়ার পর ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারেও ফুটবলের চেয়ে পরিবারকেই বেশি গুরুত্ব দেন ইয়ামাল। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ভাইকে এতটা খুশি দেখতে পেয়ে আমি আবেগাপ্লুত। আমার মা এবং বন্ধুদেরও তাদের স্বপ্নের মতো জীবন কাটাতে দেখে খুব ভালো লাগছে। আমার ছোট ভাইই আমার সব। আমি তাকে প্রচণ্ড ভালোবাসি; মনে হয় সে যেন আমার নিজেরই সন্তান।’