হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার খোয়াই নদীতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগের চার মাস পর প্রশাসনের অভিযান শুরু হয়েছে। তবে ততদিনে নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পরে অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত দুটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আলাপুর-চরহামুয়া এলাকার বাসিন্দারা শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে জানান, একটি প্রভাবশালী চক্র খোয়াই নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তীররক্ষা বাঁধ, স্থানীয় সড়ক ও নদীসংলগ্ন জমি ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে তারা সতর্ক করেন। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে লস্করপুর ইউনিয়নের শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একাধিকবার প্রতিবাদ সভাও অনুষ্ঠিত হয়। তবে আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে হয়রানির অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। এতে অনেকেই প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ান।
এরই মধ্যে টানা বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপে গত ৯ জুলাই রাতে চরহামুয়া-কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর তীররক্ষা বাঁধের একটি বড় অংশ ভেঙে যায়। এতে মুহূর্তেই নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় অসংখ্য বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক।
বাঁধ ভাঙার ঘটনার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত দুটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শামিমুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো এত বড় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো।
লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উজ্জ্বল মিয়া বলেন, দীর্ঘদিনের অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীররক্ষা বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। বারবার প্রতিবাদ করলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় ঠেকাতে অবৈধ বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানান তিনি।
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাননি। গত এক মাস ধরে বালু উত্তোলন বন্ধ ছিল। তবে এর আগে প্রায় চার মাস ড্রেজার চলেছে। ইতোমধ্যে দুটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু ড্রেজার জব্দ করলেই হবে না, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত স্থায়ীভাবে সংস্কার, দুর্গতদের পুনর্বাসন এবং নদী ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারিরও দাবি জানিয়েছেন তারা।