দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেছেন, স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিয়ে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে সরকার।
শনিবার (১১ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম জেলায় এ পর্যন্ত ৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে। বর্তমানে জেলার ৬৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের জন্য শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।
পাহাড়ধসের ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ জন্য সরকারি খাসজমি ও পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবহার করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বিচারে পাহাড় কাটা ও বন উজাড়ের কারণে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হলে এর বিরূপ প্রভাব অনিবার্য।
বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত রয়েছে এবং সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য রোগব্যাধি প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পুনর্বাসনে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেবে। কৃষি উৎপাদন পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিশুখাদ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী শিশুখাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে এবং চাহিদা বাড়লে আরও সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সংকট মোকাবিলায় পানি পরিশোধন যন্ত্র ও বোতলজাত পানি সরবরাহের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
এম ইকবাল হোসেইন জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় বন্যাকবলিত বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি এবং করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।