অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে কথাকাটাকাটির জেরে আজগর আলী (৩৫) নামে এক দর্জিকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকার কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতার ছেলের বিরুদ্ধে।
গত রোববার সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরদিন ৬ জুলাই দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় অভিযোগ করে ভুক্তভোগী। আজ বৃহস্পতিবার অভিযোগের ৩ দিন পার হলেও কোনো আইনী ব্যবস্থা কিংবা মামলা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুলাই সন্ধ্যায় কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা ভাড়া ঠিক করার সময় চালকের সঙ্গে আজগর আলীর বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা তেঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতা গাজী জাহাঙ্গীরের ছেলে সায়মন ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে আজগর আলীর মাথা ও পিঠে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী আসাদুল হক জানান, হামলায় আজগর আলীর মাথা ফেটে যায় এবং পিঠের একটি হাড় ভেঙে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনার পর স্থানীয়রা হামলার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্ত সায়মন পূর্ব শত্রুতার জেরে হামলা করেছেন বলে জানান।
আহত আজগর আলীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে সায়মনকে চিনেও না। কোনো কারণ ছাড়াই তাকে এভাবে মারধর করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আজগর আলী বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে আমার আগে কখনও পরিচয় বা দেখা হয়নি। কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পিঠের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমি আইনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।
আহতের বড় ভাই বাবলু অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পরদিন ৬ জুলাই দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। শুধু একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেছে। আজ ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) অভিযোগের ৩ দিন পার হলেও কোনো আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই এখন পর্যন্ত মামলা নেয়নি পুলিশ।
এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ হওয়ার ৩ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ মামলা না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয়দের দাবী, আজগর আলী একজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এ ধরনের হামলার ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।