টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার নিচু এলাকাগুলোতে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দোহাজারী অংশসহ কয়েকটি স্থানে সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল থেকেই মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুপানি জমে থাকতে দেখা যায়। এতে ছোট যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বড় যানবাহনগুলোও ঝুঁকি নিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে এলাকার খাল-বিল ও জলাশয়গুলো উপচে পড়েছে। পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় পাহাড়ি ঢলের পানি সরাসরি মহাসড়কে উঠে এসেছে। অনেক স্থানে সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের জাল ফেলে মাছ ধরতেও দেখা গেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতারই প্রতিচ্ছবি।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, সড়কে পানি জমে থাকায় গণপরিবহন স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক ঘণ্টা বিলম্বে চলাচল করছে। ফলে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। চন্দনাইশ থেকে চট্টগ্রাম শহরমুখী এক যাত্রী বলেন, “সড়কের ওপর পানি থাকায় বাসগুলো খুব ধীরে চলছে। জরুরি কাজে বের হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছি।”
চন্দনাইশ উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে পাহাড়ের পাদদেশ ও নিচু এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চট্টগ্রামে আগামী দুই দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কসহ আশপাশের এলাকার স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।