জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় কৃষক কার্ড কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রকৃত কৃষকদের জমির নামজারি দ্রুত সম্পন্ন এবং এ বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নামজারি-সংক্রান্ত সেবায় কোনো ধরনের হয়রানি বা অযথা বিলম্ব না করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মাহবুব স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক পত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পত্রে বলা হয়েছে, সরকার সম্প্রতি কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড কর্মসূচি চালু করেছে। এর মাধ্যমে দেশের প্রকৃত কৃষকদের একটি নির্ভুল ও সমন্বিত ডিজিটাল তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারি কৃষি সহায়তা, ভর্তুকি ও অন্যান্য সেবা সহজে তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, কৃষক কার্ডের আওতায় প্রকৃত কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করতে জমির মালিকানার হালনাগাদ তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই জমির নামজারি কার্যক্রম দ্রুত, নির্ভুল ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করতে হবে।
এ লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে মাইকিং, প্রচার-প্রচারণাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে নামজারির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব কৃষকের নামে রেকর্ডীয় খতিয়ান বা নামজারি খতিয়ান নেই, তাদের দ্রুত নামজারির আবেদন করতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে এ কাজে কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া কৃষক কার্ডের সুবিধা পেতে আগ্রহী প্রকৃত কৃষকদের নামজারির আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। আবেদনকারীদের স্থানীয় ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়ার নির্দেশও রয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নামজারি বিষয়ে কৃষকদের যথাযথ পরামর্শ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে এবং সেবা প্রদানে কোনো ধরনের হয়রানি বা অযথা বিলম্ব করা যাবে না। উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান, নিয়মিত তদারকি এবং কার্যক্রমের অগ্রগতি নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মাহবুব বলেন, “কৃষক কার্ড কর্মসূচির সুফল যেন প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছে, সে লক্ষ্যেই জমির নামজারি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই দ্রুত ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
জানা গেছে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটালাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পারফরম্যান্স (ডিকেএমপি) অনুবিভাগের ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখের নির্দেশনার আলোকে কালাই উপজেলা কৃষি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং উপজেলার সব ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।