অবৈধ অভিবাসীকে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাত থেকে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের সাবেক বিচারক হান্না ডুগানকে কারাদণ্ড না দিয়ে ৫ হাজার ডলার জরিমানা করেছেন আদালত।
উইসকনসিনের মিলওয়াকি কাউন্টি সার্কিট কোর্টের সাবেক বিচারক হান্না ডুগানকে ফেডারেল জুরি বিচার কার্যক্রমে বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। বুধবার সাজা ঘোষণার সময় আদালত তাকে ৫ হাজার ডলার জরিমানা করেন।
রায় ঘোষণার সময় ডুগান প্রথমবারের মতো আদালতে বক্তব্য দিয়ে বলেন, তিনি আদালতের ‘শৃঙ্খলা’ ও ‘নিরাপত্তা’ বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন, যা জনসাধারণের প্রাপ্য।
তার আইনজীবীরা আদালতে চরিত্র সাক্ষী উপস্থাপন করে দাবি করেন, ডুগান একজন নিষ্ঠাবান সরকারি কর্মকর্তা এবং খ্রিস্টান মূল্যবোধে বিশ্বাসী ব্যক্তি হিসেবে কাজ করেছেন। তার ভাষায়, ‘আমি একজন সরকারি কর্মচারী, শুধু আমার দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি।’
ডুগান বিভিন্ন উদারপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে ছিল লিগ অফ উইমেন ভোটারস, মিলওয়াকি টার্নার্স (এনএএসিপি)এবং অভিবাসীবান্ধব অবস্থানের জন্য পরিচিত ক্যাথলিক চ্যারিটিস--এর একটি স্থানীয় শাখা।
রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়ার পর তিনি গত জানুয়ারিতে বিচারকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
মার্কিন উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সাবেক বিচারক হান্না ডুগান তার শপথ এবং জনগণের বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন, যখন তিনি অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযানে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে বাধা দেন। ফেডারেল জুরির এই রায় স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে আমেরিকান জনগণ আইন-শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’
অভিযোগ অনুযায়ী, ডুগান তার আদালতের বাইরে অবস্থানরত মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা এবং ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হয়ে ৩১ বছর বয়সী মেক্সিকান নাগরিক এদুয়ার্দো ফ্লোরেস-রুইজকে একটি ব্যক্তিগত জুরি দরজা দিয়ে বের করে দেন, যাতে তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে পারেন। তবে ফেডারেল এজেন্টরা আদালতের বাইরে তাকে অনুসরণ করে গ্রেপ্তার করেন।
প্রসিকিউটররা জানান, ফ্লোরেস-রুইজকে এর আগেও অ্যারিজোনার নোগালেস সীমান্তে গ্রেপ্তার করে মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। পরে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর আইসিই তাকে আবারও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করে।