টানা বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি জেলাজুড়ে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় সীমান্তবর্তী বাল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার এবং হবিগঞ্জ শহরের মাছুলিয়া পয়েন্টে ৮৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কালনী-কুশিয়ারা নদীর পানিও বিপদসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপরে ওঠে।
এ ছাড়া নবীগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলার কুশিয়ারা নদী, লাখাই উপজেলার ধলেশ্বরী নদী, শায়েস্তাগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার সুতাং নদী এবং মাধবপুর উপজেলার সোনাই নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১০৯ দশমিক ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পাউবো।
টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে জেলার প্রায় সব নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল, হাওর এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধসংলগ্ন বসতিগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে খোয়াই নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে এবং ইতোমধ্যে তা বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। হবিগঞ্জে নদীটির প্রায় ১১৫ কিলোমিটার অংশ রয়েছে, যার বিভিন্ন স্থানের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে।
তিনি জানান, পানি আরও বাড়লে কয়েকটি স্থানে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়তে পারে। তবে হবিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো সংস্কার করা হয়েছে এবং পাউবোর কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
এদিকে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন প্রস্তুতি জোরদার করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে নজরদারি, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে জেলার নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এতে কৃষিজমি, মৎস্য খামার, বসতবাড়ি, সড়ক যোগাযোগ ও জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।