রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের জান্তা সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি হিসেবে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই (ভ্যারিফিকেশন) কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি এবং বিকল্প কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের কথাও জানান তিনি।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিনে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বাধীন সরকার রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুত সমাধানে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ সংকট নিরসনে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে জোরালো কূটনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।
তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে সফল কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হয়েছিল। ওই সময় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের একটি অংশ দ্রুত নিজ দেশে ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতায় রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই, শান্তিপূর্ণ ও কার্যকর সমাধানের পথ খুঁজছে।
তিনি জানান, রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক মানবিক আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে জাতিসংঘ, বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর ইউএনএইচসিআর, ইউএন উইমেন এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে এবং মানবিক সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করে।
সংসদ নেতা জানান, চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের সময় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্য তুরস্কের মানবিক সহায়তা আরও বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ভবিষ্যতেও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বজনমতকে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ বিবেচনায় নিয়ে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার করা মামলার প্রতি বাংলাদেশের নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেই নিহিত। তাই রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, টেকসই ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে মিয়ানমারের জান্তা সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রচলিত কূটনীতির বাইরে আস্থা তৈরির (কনফিডেন্স বিল্ডিং) অন্যান্য প্রক্রিয়াও বিবেচনায় রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রত্যাবাসনের মূল ভিত্তি হিসেবে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ নিয়মিতভাবে এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসন বা প্রত্যাবাসনের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।