দীর্ঘদিন ধরে ভারতগামী টুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ থাকায় দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল চেকপোস্টে নেমে এসেছে স্থবিরতা। সম্প্রতি টুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও ভিসা প্রাপ্তির গতি ধীর থাকায় এখনো স্বাভাবিক হয়নি যাত্রী চলাচল। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে চেকপোস্টকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও হাজারো মানুষের জীবিকায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, একসময় যাত্রীতে মুখর থাকা বেনাপোল চেকপোস্ট এখন অনেকটাই ফাঁকা। বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও ভাড়ায় চালিত যানবাহন দীর্ঘ সময় যাত্রীবিহীন অবস্থায় অপেক্ষা করছে। যাত্রী সংকটের কারণে পরিবহন খাতের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
চেকপোস্টসংলগ্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ, মুদি দোকান, মানি এক্সচেঞ্জ, ট্রাভেল এজেন্সি ও অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও বেচাকেনা কমে এসেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিদিনের আয় কমে যাওয়ায় দোকান পরিচালনা ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন যাত্রীনির্ভর পেশাজীবীরা। কুলি, পরিবহন শ্রমিক, অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালক, লাগেজ বহনকারী, হোটেলকর্মীসহ শত শত মানুষ পর্যাপ্ত কাজ না থাকায় আয় হারিয়েছেন। অনেকেই বিকল্প পেশার খোঁজে ছুটছেন, আবার কেউ কেউ ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের দাবি, টুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলে বেনাপোল চেকপোস্টের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরবে না। তারা দ্রুত ও সহজ প্রক্রিয়ায় ভিসা প্রদান নিশ্চিত করে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্টদের আশা, ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি সচল হলে ধীরে ধীরে যাত্রী সংখ্যা বাড়বে। এর ফলে চেকপোস্টকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন খাত এবং যাত্রীনির্ভর মানুষের কর্মসংস্থানও আবার আগের মতো প্রাণ ফিরে পাবে।