বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন অচল থাকা বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা পুনরায় চালু ও হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. কামাল হোসেন মুফতির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল হাসপাতালের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালাচ্ছে।
সোমবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডা. কামাল হোসেন মুফতি অভিযোগ করেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করা হলেও একটি কুচক্রী মহল গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং চলমান সেবামূলক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উপজেলার মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল। সীমিত জনবল ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ডা. কামাল হোসেন মুফতি দায়িত্ব গ্রহণের পর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা অপারেশন থিয়েটার, ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, প্যাথলজি সেবা, আই ভিশন সেন্টার এবং অচল এক্স-রে মেশিন পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সূত্রটির দাবি, প্রায় দুই থেকে তিন বছর বন্ধ থাকার পর অপারেশন থিয়েটার চালু হওয়ায় সরকারি হাসপাতালে পুনরায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ওষুধ বিতরণে শৃঙ্খলা আনা এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করায় সাধারণ রোগীদের আস্থা বেড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. কামাল হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য খাত নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শকে স্বাগত জানানো হলেও অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রতি অনাস্থা সৃষ্টি করতে পারে।
হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশের দাবি, সেবার মানোন্নয়ন ও সংস্কারমূলক উদ্যোগে একটি মহলের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ায় তারা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করা এবং একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ডা. কামাল হোসেনকে জনবান্ধব কর্মকর্তা উল্লেখ করে হাসপাতালের দৃশ্যমান উন্নয়নকে আড়াল করতেই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন।
এক লিখিত বক্তব্যে ডা. কামাল হোসেন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে ওঠা অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের মাধ্যমে জনমনে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করা এবং হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।