সমবয়সীরা যখন মাঠজুড়ে দৌড়ঝাঁপ করে, তখন দূরে দাঁড়িয়ে তাদের খেলা দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ১০ বছরের সাজ্জাদ ইসলাম নাঈম। জন্মের মাত্র ২৮ দিন পর ধরা পড়ে তার হৃদযন্ত্রে ফুটো (হার্টে ছিদ্র)। সেই থেকে হাসপাতাল, চিকিৎসা আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই কেটে যাচ্ছে শৈশব। এখন জীবন বাঁচাতে জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন আরও ৫ লাখ টাকা, যা দরিদ্র পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের ধুনট গ্রামের বাসিন্দা নাঈম বর্তমানে স্থানীয় বিনইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। শারীরিক অসুস্থতা থাকলেও পড়াশোনায় সে মেধাবী এবং নিয়মিত স্কুলে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে সামান্য হাঁটাচলা কিংবা দৌড়ঝাঁপ করলেই শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেও পারে না।
পরিবার জানায়, জন্মের পর থেকেই নাঈমের চিকিৎসা চলছে। প্রথমে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা উন্নত অস্ত্রোপচারের জন্য ভারতের বেঙ্গালুরুতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার মিলিয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা।
এই অর্থের ব্যবস্থা করতে গিয়ে পরিবার ইতোমধ্যে বসতভিটার এক শতক জমি, তিনটি গরু এবং জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ভ্যান বিক্রি করেছে। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকা জোগাড় হলেও এখনও ৫ লাখ টাকার অভাবে চিকিৎসা শুরু করা যাচ্ছে না।
নাঈমের বাবা নুর মোহাম্মদ বলেন, ছেলের চিকিৎসার জন্য যা ছিল সব বিক্রি করেছি। এখন দিনমজুরি করে কোনোভাবে সংসার চালাই। এত টাকা জোগাড় করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
মা মোছাম্মৎ সেলিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেটাকে বাঁচাতে সবকিছু বিক্রি করেছি। এখন সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। সবাই যদি একটু করে সাহায্য করেন, তাহলে আমার ছেলে নতুন জীবন পেতে পারে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নাঈম অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা উদ্বেগজনক। দ্রুত অস্ত্রোপচার না হলে বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে।
সহপাঠীরা জানায়, খেলাধুলা করতে খুব ইচ্ছা থাকলেও অসুস্থতার কারণে নাঈম বেশিক্ষণ খেলতে পারে না। তারা চায়, চিকিৎসা শেষে নাঈম আবার তাদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলা ও পড়াশোনা করুক।
নিজের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে নাঈম বলে, বন্ধুরা দৌড়ায়, খেলাধুলা করে, কিন্তু আমি পারি না। একটু দৌড়ালেই শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। আমি সুস্থ হয়ে সবার মতো স্কুলে যেতে, খেলতে আর পড়াশোনা করতে চাই।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কালাই উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে সরকারি বিধি অনুযায়ী সম্ভাব্য সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি তিনি সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষদের শিশুটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
পরিবারের আকুতি, সময়মতো প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা হলে নাঈমের অস্ত্রোপচার সম্ভব হবে এবং সে ফিরে পেতে পারে একটি স্বাভাবিক, সুস্থ জীবন।