ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় স্বামীর পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে চলন্ত ট্রেনের নিচে ধাক্কা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রেল পুলিশ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কৈডুবি সদরদী রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফাতেমা খাতুন (১৯) উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের চুমুরদী গ্রামের প্রবাসী দেলোয়ার শেখের মেয়ে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে মুকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারী ইউনিয়নের কহলদিয়া গ্রামের ইসরাফিল শিকদারের ছেলে সাইফুল শিকদারের সঙ্গে ফাতেমার বিয়ে হয়। বিয়ের এক মাস পর সাইফুল প্রবাসে চলে যান। এরপর থেকে ফাতেমা ভাঙ্গার কাপুড়িয়া সদরদী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পরিবারের দাবি, প্রায় এক সপ্তাহ আগে সাইফুল দেশে ফেরার পর অন্য এক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ সৃষ্টি হতো। মঙ্গলবার সকালে সাইফুল ফাতেমাকে নিয়ে রেললাইনের দিকে ঘুরতে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রেললাইনের পাশে তাদের দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর একটি ট্রেন চলে গেলে ফাতেমার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ রেললাইনে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনার পর থেকে সাইফুলকে আর সেখানে দেখা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ ধারণা করছেন, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ফাতেমা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। আবার অন্যদের সন্দেহ, তাকে ধাক্কা দিয়ে ট্রেনের নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিহতের চাচা সুমন শেখ বলেন, সাইফুল প্রবাসে থাকাকালীন অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। দেশে ফেরার পরও স্ত্রীর সামনেই ওই নারীর সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতেন। এতে ফাতেমা প্রতিবাদ করলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। আমাদের ধারণা, রেললাইনে নিয়ে গিয়ে ফাতেমাকে ট্রেনের নিচে ফেলে দিয়ে সাইফুল পালিয়ে গেছেন।
রাজবাড়ী রেলওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাকুর বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু জাফর মিয়া জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।