ইরানের সর্বোচ্চ প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোকযাত্রায় অংশ নিতে সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানের রাজপথে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই জনসমাগম প্রায় চার দশক আগে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির শোকযাত্রার রেকর্ডকে স্পর্শ করতে পারে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির শোকযাত্রায় প্রায় ১ কোটি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। তবে অতিরিক্ত ভিড় ও হুড়োহুড়িতে অন্তত ১০ জন নিহত হন এবং আহত হন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ।
শোকযাত্রার অংশ হিসেবে সোমবার আলী খামেনির মরদেহ বিশেষভাবে সাজানো একটি যানে করে তেহরানের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করানো হচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, যানটির পেছনে মানুষের দীর্ঘ মিছিল এগিয়ে চলছে। রাস্তার দুই পাশ থেকে শোকাহত মানুষ কফিনের দিকে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
গত তিন দিন ধরে আলী খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের উপস্থিতি দেখা গেলেও সর্বোচ্চ নেতার ছেলে মোজতবা খামেনি প্রকাশ্যে আসেননি। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কা থাকায় তাকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ এখনো কাটেনি।
এদিকে ইরানের নেতৃত্বের উদ্দেশে নতুন করে হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির গণমাধ্যম চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, তেল আবিব ধ্বংসের পরিকল্পনায় যেসব ইরানি নেতা ভূমিকা রাখবেন, তাদের সবাইকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
চ্যানেল ১৩ আরও জানিয়েছে, আলী খামেনির শোকযাত্রার প্রেক্ষাপটেই এই হুমকি দেন কাৎজ। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, খামেনির ছেলে মোজতবাও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছেন। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে তেহরান তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দেবে।