জয়- এই একটা শব্দই বদলে দিতে পারে একটা দেশের একটা প্রজন্মের সব স্বপ্ন। বদলে দিতে পারে দেশটির ফুটবল ইতিহাসেরও। এমনই এক বাস্তবতার সামনে দাড়িয়ে স্পেন ও অস্ট্রিয়া। শেষ ৩২ এ লামিন ইয়ামালরা আগামীকাল রাতে মুখোমুখি হবে অস্ট্রিয়ার।
এদিকে আরেক ম্যাচে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের প্রতিপক্ষ লুকা মদরিচের ক্রোয়েশিয়া। নকআউটে দ্বিতীয় কোনো সুযোগ নেই। মাঠের ফুটবলের বাড়তি সৌন্দর্যের কোনো বাড়তি কদর নেই। এখানে একটাই প্রশ্ন আর একটাই উত্তর জয়।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় সেরা দল স্পেন এসেছে নিজেদের সুপরিচিত ছন্দ নিয়ে। বল দখলে রেখে, পুরো মাঠ জুড়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখা তাদের অন্যতম পরিকল্পনা।
স্পেন এসেছে নিজেদের পরিচিত ছন্দ নিয়ে। বল নিজেদের কাছে রাখা, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করা, প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে ফেলা। গ্রুপ পর্বে স্পেন ছিল প্রায় নিখুঁত। তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট, পাঁচ গোল, এখনও পর্যন্ত একটিও গোল হজম করেনি।
শুরুতে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র, এরপর সৌদি আরবের বিপক্ষে বড় জয়, আর শেষ ম্যাচে উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকে নকআউটে এসেছে তারা। টানা কয়েকশ মিনিট ধরে গোল না খাওয়ার রেকর্ড তাদের ডিফেন্সের দৃঢ়তার প্রমাণ। কেপ ভার্দের বিপক্ষে তারা অসংখ্য আক্রমণ করেও গোল পায়নি। বল ছিল, নিয়ন্ত্রণ ছিল, সুযোগ ছিল। ছিল না শুধু শেষ ছোঁয়া।
দলটির ভরসা এখনও তাদের মাঝমাঠ আর সংগঠিত ফুটবল। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন গত কয়েক বছরে নিজেদের নতুন পরিচয় তৈরি করেছে। লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস পুরোপুরি ফিট নন।
অন্যদিকে অস্ট্রিয়া দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলছে। তাদের হারানোর কিছু নেই, পাওয়ার আছে অনেক কিছু। ১৯৮২ সালের পর এবারই তারা বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো প্রথম পর্ব পেরিয়ে এসেছে।
গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার পথচলা ছিল নাটকীয়। আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই, গোলে ভরা ম্যাচ, শেষ মুহূর্তের সমীকরণ সবকিছু পেরিয়ে তারা জায়গা করে নিয়েছে শেষ ৩২–এ। তিন ম্যাচে ছয় গোল করেছে, আবার ছয় গোল হজমও করেছে। কোচ রালফ রাংনিকের দর্শন পরিষ্কার। সুযোগ পেলে দ্রুত সামনে ওঠো, ম্যাচের গতি বাড়াও, প্রতিপক্ষকে অস্বস্তিতে ফেলো।
দলের সেরা পারফরম্যার মার্কো আরনাউটোভিচ। বয়স বেড়েছে। মাঝমাঠে মার্সেল সাবিৎজার অস্ট্রিয়ার ইঞ্জিন। ম্যাচ যদি খোলা জায়গায় যায়, তাহলে অস্ট্রিয়া বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
স্পেন চাইবে বল নিজেদের কাছে রাখতে, ধৈর্য ধরে ফাঁক খুঁজতে। অস্ট্রিয়া চাইবে ম্যাচটাকে ভাঙতে, দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠতে। স্পেন যত বেশি সময় গোল ছাড়া থাকবে, অস্ট্রিয়ার আত্মবিশ্বাস তত বাড়বে। আর অস্ট্রিয়া যদি প্রথম গোল পেয়ে যায়, তাহলে ম্যাচ পুরোপুরি অন্য রূপ নিতে পারে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের আলোয় এক দল নামবে নিজেদের রাজকীয় নিয়ন্ত্রণকে গোলের ভাষা দিতে। আরেক দল প্রমাণ করতে চায় বিশ্বকাপে বিস্ময় কখনও আগাম ঘোষণা দিয়ে আসে না। মধ্যমাঠে রদ্রি বল বানিয়ে বাড়িয়ে দিচ্ছেন লামিন ইয়ামাল, পেদ্রি, বায়েনার দিকে।
এরপর প্রতিপক্ষের ডি বক্সের বাইরে চলে বল দেয়া নেয়ার খেলা, মূলত প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে ফেলাই আসল কৌশল স্প্যানিশদের। তবে লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের হালকা ইনজুরি ভাবাচ্ছে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে। গ্রুপ পর্বের প্রতিটা ম্যাচে স্পেন তাদের কৌশলের নিখুঁত প্রয়োগ করে তিন ম্যাচে অর্জন করেছে সাত পয়েন্ট। পাঁচ গোল দিয়ে একটিও গোল হজম করেনি।
শুরুতে, কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, এরপর সৌদি আরবের বিপক্ষে বড় জয়, আর শেষ ম্যাচে উরুগুয়েকে ১–০ গোলে হারিয়ে নকআউটে। টানা কয়েকশ মিনিট ধরে গোল না খাওয়ার রেকর্ড তাদের ডিফেন্সের দৃঢ়তার প্রমাণ।
গ্রুপ পর্বে র্যাঙ্কিং শীর্ষ দল আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই, মেসির জোড়া গোলে প্রথম ম্যাচে হার। এরপর জর্ডানকে হারিয়ে স্বস্তি ফেরে দ্য বয়েস শিবিরে। তবে মহানাটকীয় ম্যাচে আলজেরিয়ার সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করে অস্ট্রিয়া। শেষ মুহূর্তের সমীকরণে সব বাধা ডিঙ্গিয়ে তারা জায়গা করে নেয় শেষ ৩২ এ। তিন ম্যাচে ছয় গোল দিয়ে, আবার ছয় গোল হজমও করেছে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অস্ট্রিয়া। হারানোর কিছু নেই, ১৯৮২ সালের পর বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোনো মধ্য ইউরোপের দলটির। তাই কোচ রালফ রাংনিকের দর্শন পরিষ্কার। দলের সেরা পারফরম্যার মার্কো আরনাউটোভিচ এবং অস্ট্রিয়ার ইঞ্জিন মিডফিল্ডার মার্সেল সাবিৎজারের প্রতি একটাই নির্দেশনা - সুযোগ পেলে দ্রুত সামনে ওঠো, ম্যাচের গতি বাড়াও, প্রতিপক্ষকে অস্বস্তিতে ফেলো। জার্মানি নেদারল্যান্ডসের মতো ফুটবল পরাশক্তির অঘটনের বিশ্বকাপে আর কি অঘটন বাকি আছে সেটা হয়তো সময় বলে দেবে। এমন অঘটনের স্বাক্ষী হতে চায় না বিশ্ব ফুটবলের আরেক পরাশক্তি স্পেন।
ষোলো বছর আগে বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। তার পরে শুধুই বয়ে বেড়াতে হয়েছে হতাশা। দু’বছর আগে ইউরো চ্যাম্পিয়ন দলটিকে বিশেষজ্ঞরা ট্রফি জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে ধরে নিলেও গ্রুপ পর্বের খেলায় সেই ঝাঁঝ দেখা যায়নি লামিনে ইয়ামালদের খেলায়। তবে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে নক-আউটে অন্য স্পেনকে দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন দলের মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইস। গ্রুপ পর্বে স্পেন প্রথম ম্যাচে ডের করেছিল কেপ ভার্দের সঙ্গে। তার পরে সৌদি আরব এবং উরুগুয়েকে যথাক্রমে ৪-০ এবং ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ‘এইচ’-এ শীর্ষ স্থান নিয়ে নক-আউট নিশ্চিত করে।
এক সাক্ষাৎকারে রুইস বলেছেন, প্রথম ম্যাচে আমরা প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারিনি। কারণ কেপ ভার্দে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। তার পরে প্রতিটি ম্যাচেই আমরা উন্নতি করেছি। মনে রাখতে হবে বিশ্বকাপ অত্যন্ত কঠিন প্রতিযোগিতা। তবে নিজেদের সামর্থ্য ও প্রস্তুতির ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। নক-আউটে সম্পূর্ণ অন্য ছন্দের স্পেনকে দেখতে পাওয়া যাবে।
২০১০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের চার বছর পরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় স্পেনকে। ২০১৮ সালে রাশিয়া এবং চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় ঘটে ‘লা রোজাদের’।
সোমবারই জার্মানিকে নক-আউটে হারিয়ে চমক দিয়েছে প্যারাগুয়ে। সেই প্রসঙ্গে রুইস বলেছেন, আধুনিক ফুটবলে ছোট দলগুলিও বড় দলকে হারাতে পারে। জার্মানির বিরুদ্ধে প্যারাগুয়ের জয় সেটাই প্রমাণ করেছে। তবে আমরা অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সর্বতোভাবে প্রস্তুত। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রয়োজনে রুইসকে উইংয়ে খেলানো হতে পারে। কারণ চোটের কারণে স্পেনের দুই উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামস ও ইয়েরেমি পিনো এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না। উরুগুয়ের বিরুদ্ধে তারা দু’জনেই চোটের কবলে পড়েছেন।
এছাড়া লিভারপুলের তারকা ভিক্টর মুনো পেশির চোটের কারণে এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলতে পারেননি। লামিনে ইয়ামাল সৌদি আরবের বিরুদ্ধে গোল করলেও মাংসপেশির চোট সম্পূর্ণ না সারায় তাকেও পুরো ৯০ মিনিট খেলাচ্ছেন না কোচ দে লা ফুয়েন্তে।
কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে গোলশূন্য ড্রয়ের পরে রুইস নিজেও পরের দু’ম্যাচে প্রথম একাদশে ছিলেন না স্পেনের ৩০ বছরের মিডফিল্ডার। তবে ইউরো ট্রফি জয়ী দলের সদস্য এই বিষয়ে কোনও আক্ষেপ রাখছেন না। তার কথায়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দলের জয়। বর্তমানে আমার দায়িত্ব সতীর্থদের সাহায্য করা এবং সুযোগের অপেক্ষা করা।