খুলনার পাইকগাছা পৌরসভায় আধুনিক পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার (সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) চালু হওয়ায় স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াটারএইড ও নবলোকের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের মাধ্যমে পৌর এলাকার পয়ঃবর্জ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিশোধন করে নিরাপদভাবে পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পয়ঃবর্জ্য শোধনাগারে মানববর্জ্য, গৃহস্থালির ব্যবহৃত দূষিত পানি এবং অন্যান্য তরল বর্জ্য আধুনিক প্রযুক্তি ও জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিশোধন করা হয়। এর ফলে নদী, খাল ও জলাশয়ে অপরিশোধিত বর্জ্য পড়ার ঝুঁকি কমছে এবং পরিবেশ দূষণ ও পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে এই প্ল্যান্ট।
প্ল্যান্টটির কার্যক্রম তিনটি ধাপে পরিচালিত হয়। প্রথম ধাপে ছাঁকনি ও থিতানোর মাধ্যমে পলিথিন, বালুসহ ভাসমান ও ভারী কঠিন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে জৈব বর্জ্য ভেঙে পানিকে আরও বিশুদ্ধ করা হয়। সর্বশেষ উন্নত শোধন প্রক্রিয়ায় নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও ক্ষতিকর রোগজীবাণু অপসারণের পর পরিশোধিত পানি নিরাপদভাবে নদী বা জলাশয়ে নির্গমন করা হয়।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শোধনাগারটির মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পয়ঃবর্জ্য পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। একই সঙ্গে পৌর এলাকায় সুয়ারেজ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজও চলমান রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বেশি নাগরিককে আধুনিক স্যানিটেশন সেবার আওতায় আনবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য সরাসরি নদী বা খালে ফেলা হলে জলজ প্রাণী, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। আধুনিক পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার ব্যবহারের ফলে এ দূষণ কমবে, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্গন্ধ ও ময়লার সমস্যা হ্রাস পাবে এবং শহরের পরিবেশ আরও স্বাস্থ্যকর হবে।
এছাড়া শোধিত পানি কৃষিকাজ, শিল্প-কারখানা এবং রাস্তা পরিষ্কারসহ বিভিন্ন কাজে পুনঃব্যবহারের সুযোগ থাকায় পানি সংরক্ষণ ও টেকসই নগর ব্যবস্থাপনায়ও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।