বান্দরবানের লামায় মাতামুহুরী রিভার সাইড রিসোর্টে এক নারী পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টা, মারধর ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় রিসোর্ট মালিকসহ গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে আসামিদের লামার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার এজাহারে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪ জনকে আসামি করা হয়। মামলার পর লামা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাকিল আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারদের ১ নম্বর আসামি রাশেদের কাছ থেকে ভুক্তভোগী নারীর ছিনিয়ে নেওয়া ৮ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ৩ নম্বর আসামি হৃদয় তার কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া স্বর্ণের কানের দুল উদ্ধার করে জব্দ করেছে পুলিশ।
লামা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সব ধরনের আইনগত প্রক্রিয়া চলমান আছে।
অভিযোগে জানা যায়, গত ২৫ জুন লামা পৌরসভার চাম্পাতলী এলাকার শাহ আলমের ছেলে রাশেদ (২৫), অভি (২০) ও লামা বাজার পাড়ার হৃদয়সহ (২৮) অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জন। উপজেলা সদরের মাতামুহুরি রিভার সেট রিসোর্টে দুজন নারী পর্যটকসহ কয়েকজন পুরুষ পর্যটক গেস্ট আসেন।
গেস্টগণ রুমে প্রবেশ করলে রিসোর্টের লোকজন রুমের বাহির থেকে তালা লাগিয়ে তাদের আটকে দেন। পর্যটকদের চিৎকারে এক পর্যায়ে টেনেহিঁচড়ে নারীদের বিবস্ত্র করা হয়। রিসোর্টের লোকজন তাদের জিম্মি করে ভিডিও এবং ছবি ধারণ করে। ভিডিও ধারণ করার সময় তাদের শিখিয়ে দেওয়া বক্তব্য রেকর্ড করা হয়। পরে নারীদের কাছে থাকা স্বর্ণ এবং পুরুষদের কাছে থাকা নগদ ৪৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। মালিক কর্তৃক নারীদের স্বর্ণ ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠে। পরে নারীদের সাথে থাকা আবু ছিদ্দিক নামক একজন এই ঘটনার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়ে লামা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।