ফরিদপুরের সদরপুরে মেলায় ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর শাহাদাত বেপারি (৮) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার একটি কাশবন থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে—মেলায় দোলনায় কাজ করা এক যুবক নাকি শিশুটির পরিবারের সদস্যদের ফোন করে মরদেহের অবস্থান জানায়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ওই যুবক পলাতক রয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মেলায় থাকা দোলনার মালিকসহ পাঁচ কর্মচারীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। সোমবার (২৯ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার চরনাছিরপুর ইউনিয়নের আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ের একটি কাশবন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৬ জুন) চন্দ্রপাড়া দরবার সংলগ্ন ট্রলার ঘাটে মহরম উপলক্ষে আয়োজিত মেলায় ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শাহাদাত। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি মাইকিং করে শিশুটির সন্ধান করেন।
সোমবার দুপুরে মেলায় থাকা দোলনার কর্মচারী ইয়াছিন (১৮) শিশুটির বোন রওশনারাকে ফোন করে মরদেহের অবস্থান জানায়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিবারের সদস্যরা আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ের একটি কাশবনে গিয়ে শাহাদাতের গলিত মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে সদরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে ফোনকারী ইয়াছিন ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে।
ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা মেলায় থাকা দোলনার মালিক ও অন্যান্য কর্মচারীদের আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।
আটকরা হলেন, শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার মদনতালুকদারকান্দি গ্রামের মৃত আয়েত আলী বেপারীর ছেলে দেলোয়ার বেপারী (দোলনার মালিক), ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আটজন নারানপুর গ্রামের আশরাফুলের ছেলে রিয়াজ, মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের সাহেব মোল্যার ছেলে তামিম মোল্যা, ঝিনাইদহ জেলার হাটগোপালপুর এলাকার লিটন মিয়ার ছেলে জিহাদ মাহমুদ এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খোদাবাকরি গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে শাকিল ইসলাম।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু ও সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ। এ বিষয়ে ওসি জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারসহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।