ইউক্রেনের শর্তে আলোচনায় বসার কোনো আগ্রহ নেই বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রুশ প্রচারক পাভেল জারুবিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পুতিন বলেন, রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ক্রমবর্ধমান হামলা সত্ত্বেও মস্কো ইউক্রেনের শর্তে কোনো ধরনের আলোচনায় যাবে না।
সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রকে কেবল চারটি দখলকৃত অঞ্চলে—দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসন- সীমিত করার ইউক্রেনের কথিত প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেন।
রুশ প্রেসিডেন্টের মতে, এ ধরনের প্রস্তাব মূলত ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জন্য সাময়িক সুবিধা তৈরি করবে, বিশেষ করে যখন তারা জনবল সংকটে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি বা ফ্রন্টলাইনে ইউক্রেনের অনুকূলে কোনো পরিবর্তন হলে তা তাদের সেনাদের অন্যান্য এলাকায় পুনর্গঠন ও প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
এদিকে গত সপ্তাহে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হয়। এর মধ্যে ২৮ জুন রাতে ক্রিমিয়ার একটি রেল সেতু এবং রাশিয়ার অভ্যন্তরে দুটি বড় তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনা ঘটে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ড্রোনগুলো প্রায় ৭০০ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে ক্রাসনোদার ক্রাই ও ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানে। এর মধ্যে স্লোভিয়ানস্ক তেল শোধনাগারও ছিল, যা ক্রিমিয়ায় অবস্থানরত বাহিনীর জন্য জ্বালানি সরবরাহ করত।
একই সময়ে ২৫ জুন ইউক্রেনীয় বাহিনী কুবানের একটি তেল ডিপোতে হামলা চালায় এবং উফাতে দীর্ঘপাল্লার অভিযান পরিচালনা করে সম্মুখসার থেকে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দুটি কারখানায় আঘাত হানে।
এর আগে জানা যায়, ইউক্রেনের সফল ড্রোন হামলার পর রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার—নিজনি নভগোরোদ অঞ্চলের ‘নরসি’ (NORSI) প্ল্যান্টের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।