মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন হাইতি ও সিরিয়ার ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি অভিবাসীর জন্য অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টিপিএস) বাতিলের ক্ষমতা পেয়েছে। এসব অভিবাসী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করে আসছিলেন।
রোববার (২৮ জুন) সিএনএনের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান মার্কওয়েইন মালিন প্রশাসনের পরবর্তী পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, বহু অভিবাসীর কয়েক দশকের যুক্তরাষ্ট্রজীবনের অবসান ঘটতে পারে।
সিএনএন উপস্থাপক জেক ট্যাপারকে মুলিন বলেন, টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস কখনোই স্থায়ী হওয়ার জন্য তৈরি করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক টিপিএস সুবিধাভোগী ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং এ সময়ের মধ্যে তারা প্রচলিত আইনি পথে বৈধ স্থায়ী মর্যাদা অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন।
মুলিনের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সামনে এখন কয়েকটি বিকল্প রয়েছে। তারা স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন, অস্থায়ী ভিসার চেষ্টা করতে পারেন অথবা নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থেকে যাওয়ার নিশ্চয়তা নেই এবং এর জন্য কঠোর শর্ত পূরণ করতে হবে।
তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের রেকর্ড রয়েছে, যারা ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি অথবা যারা করদাতাদের অর্থের ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করছেন, তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।
অন্যদিকে, যারা পূর্ণকালীন চাকরি করেছেন, তারা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রেও তাদের নিয়মিত আইনি অভিবাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
যারা স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করবেন, তাদের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রেখেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। মুলিন বলেন, আমরা আপনাকে একটি বিমানের টিকিট দেব, পাশাপাশি নতুন করে জীবন শুরু করতে সহায়তার জন্য প্রায় ২,১০০ ডলার প্রদান করব।
যারা অন্য কোনো বৈধ মর্যাদায় রূপান্তরিত হতে ব্যর্থ হবেন অথবা স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করবেন না, তাদের জন্য জোরপূর্বক বহিষ্কারের প্রস্তুতি নিচ্ছে ফেডারেল সরকার।
হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) নিষেধাজ্ঞা এবং সিরিয়ায় বেসামরিক বিমান চলাচলের সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুলিন জানান, সরকার বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ এড়িয়ে নিজস্ব বহিষ্কার ফ্লাইট ব্যবহার করবে।
তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব বহিষ্কার ফ্লাইট রয়েছে, যার মাধ্যমে আমরা এমন এলাকায়ও যেতে পারি, যেখানে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, ফেরত যাওয়া অভিবাসীদের নিয়ে আমাদের ফ্লাইটগুলো প্রায় পূর্ণ থাকবে বলে আমরা আশা করছি।
সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে জেক ট্যাপার হাইতির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের লেভেল-৪ ‘ভ্রমণ না করার’ সতর্কতার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে হাইতিতে ব্যাপক গ্যাং সহিংসতা, হত্যা ও যৌন সহিংসতার কথা বলা হয়েছে।
জবাবে মুলিন বলেন, এই সতর্কতা মূলত মার্কিন নাগরিকদের জন্য, যারা অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঝুঁকিতে থাকেন, হাইতিয়ান নাগরিকদের জন্য নয়।
মুলিন বলেন, এই সতর্কতা হাইতিতে ভ্রমণকারী মার্কিন নাগরিকদের জন্য, নিজ দেশে ফিরে যাওয়া হাইতিয়ানদের জন্য নয়।
ডিএইচএস প্রধান দাবি করেন, নিজ নিজ দেশের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনের জন্য এসব অভিবাসীর ফিরে যাওয়া প্রয়োজন। সিরিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশটি অনেক দূর এগিয়েছে এবং হাইতি ও সিরিয়া উভয় দেশেরই নিজেদের সমাজকে স্থিতিশীল করতে নাগরিকদের প্রত্যাবর্তন দরকার।
তার ভাষায়, যদি আমরা সত্যিই চাই যে এসব দেশ সফল হোক, তাহলে তাদের সেরা মানুষদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে বসবাস করতে হবে। আর আমরা সেই প্রক্রিয়ায় তাদের সহায়তা করব।