গ্রুপ পর্বের লড়াই শেষে ফুটবল বিশ্বে তৈরি হয়েছে এক ব্যতিক্রমী চিত্র। দুইটি আলাদা গ্রুপে কেপ ভার্দে ও ইরান—দুই দলই নিজেদের সব ম্যাচ ড্র করে শেষ করেছে গ্রুপ পর্ব। তবুও ভাগ্যের পার্থক্যে একজন পেয়েছে নকআউটের টিকিট, অন্যজন এখনো অপেক্ষায় সমীকরণের দিকে তাকিয়ে।
গ্রুপ ‘এইচ’-এ স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের সঙ্গে খেলেও কোনো ম্যাচে হারেনি কেপ ভার্দে। তিনটি ম্যাচই ড্র করে তারা সংগ্রহ করেছে ৩ পয়েন্ট। গোল ব্যবধানেও তারা এগিয়ে থাকায় ইতিহাস গড়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার এই ছোট্ট দ্বীপদেশটি। বড় দলগুলোর বিপক্ষে অপরাজিত থেকে শেষ ষোলোতে ওঠা তাদের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে একই ধরনের পারফরম্যান্স করেও ভিন্ন পরিস্থিতিতে ইরান। গ্রুপ ‘জি’-তে বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচেই ড্র করে তাদের সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট। তবে গোল ব্যবধান ও অন্যান্য সমীকরণের কারণে তারা এখনো সরাসরি নকআউট নিশ্চিত করতে পারেনি।
গ্রুপ থেকে বেলজিয়াম ও মিসর ইতোমধ্যে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে। বেলজিয়াম গ্রুপসেরা এবং মিসর রানার্সআপ হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে উঠেছে। ফলে ইরান এখন জায়গা পাওয়ার জন্য তাকিয়ে আছে সেরা আট তৃতীয় দলের তালিকার সমীকরণের দিকে।
২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাটে ৪৮ দলের আসরে ১২টি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় দল জায়গা পাবে নকআউটে। সেই হিসাবেই এখনো বেঁচে আছে ইরানের আশা। অন্য গ্রুপগুলোর ফল তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে—শেষ পর্যন্ত নকআউটের টিকিট মিলতে পারে, আবার স্বপ্ন ভেঙেও যেতে পারে।
একই রকম ফলাফল, কিন্তু দুই ভিন্ন পরিণতি—একদিকে কেপ ভার্দের ঐতিহাসিক উত্থান, অন্যদিকে ইরানের অনিশ্চয়তার অপেক্ষা।