জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত তা অধরা থেকে গেছে ইরানের। যোগ করা সময়ে করা গোলটি ভিএআরের সিদ্ধান্তে বাতিল হওয়ায় মিসরের বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। ফলে সরাসরি শেষ ৩২ নিশ্চিত করা সম্ভব না হলেও বিশ্বকাপ থেকে এখনই বিদায় নিচ্ছে না ইরান। এখন তাদের ভাগ্য নির্ভর করছে সেরা আট তৃতীয় দলের তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার ওপর।
গ্রুপ ‘জি’-এর শেষ ম্যাচে শুরুতেই এগিয়ে যায় মিসর। মাহমুদ সাবেরের গোলে লিড নেওয়ার পর অবশ্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি ইরানকে। রামিন রেজায়েয়ানের গোলে দ্রুতই সমতায় ফেরে দলটি। এরপর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইরান। ম্যাচের শেষ দিকে মেহদি তারেমির হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। আর যোগ করা সময়ে খলিলজাদেহ বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে ভিএআরের সহায়তায় গোলটি বাতিল করা হয়।
এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘জি’ থেকে বেলজিয়াম ও মিসর সরাসরি শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে। নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয়েছে বেলজিয়াম। সমান ৭ পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় রানার্সআপ হয়েছে মিসর। অন্যদিকে তিন ম্যাচে তিনটি ড্র করে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেছে ইরান।
২০২৬ বিশ্বকাপে ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে ১২টি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের পাশাপাশি সেরা আটটি তৃতীয় দলও জায়গা পাবে শেষ ৩২-এ। তৃতীয় দলগুলোর অবস্থান নির্ধারণে প্রথমে বিবেচনায় আসবে পয়েন্ট, এরপর গোল ব্যবধান এবং সবশেষে গোলসংখ্যা।
সে হিসেবে এখনো ভালো অবস্থানেই রয়েছে ইরান। তিন ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট, গোল ব্যবধান শূন্য এবং তারা গোল করেছে ৩টি। তবে শেষ ৩২-এ ওঠার আশা টিকিয়ে রাখতে এখন অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে তাদের।
ইরানের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাকি তিনটি গ্রুপের শেষ ম্যাচ। বিশেষ করে আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া, ডিআর কঙ্গো-উজবেকিস্তান এবং ক্রোয়েশিয়া-ঘানা ম্যাচের ফলই ঠিক করে দিতে পারে ইরানের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ ৩২ পর্যন্ত গড়াবে, নাকি গ্রুপ পর্বেই থেমে যাবে।