রূপকথার মতো এক বিশ্বকাপ অভিযান উপহার দিচ্ছে কেপ ভার্দে। উরুগুয়ে ও স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে একই গ্রুপে থেকে কোনো ম্যাচ না জিতেই রানার্স-আপ হয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপদেশটি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এমন কিছুর কল্পনাও খুব কম মানুষ করেছিলেন। তবে কেপ ভার্দের কাছে এটি এখন আর স্বপ্ন নয়, বরং বাস্তবতা।
ইতিহাস গড়ে এবার তাদের সামনে আরও বড় পরীক্ষা। শেষ ষোলোতে প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবু ভয় নয়, আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামতে চান প্রধান কোচ বুবিস্তা। তার মতে, এই বিশ্বকাপে তার দল ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে যে ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।
প্রতিপক্ষ নিশ্চিত হওয়ার পর বুবিস্তা বলেন, ‘আর্জেন্টিনার মতো দলের বিপক্ষে খেলতে পারা আমাদের জন্য গর্বের। দেশটির সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও রয়েছে। তবে প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক, আমরা নিজেদের ফুটবল খেলতে চাই। মেসিসহ তাদের দলে অসাধারণ সব ফুটবলার আছে, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য থাকবে দায়িত্বশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ থেকে নিজেদের পরিচয় অক্ষুণ্ন রাখা।’
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠা সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। এই অর্জনকে ছোট দেশগুলোর জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন বুবিস্তা।
তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম না এটি একটি রেকর্ড। যদি তাই হয়, তাহলে আমরা দেখিয়ে দিয়েছি যে ছোট দেশগুলোরও বড় স্বপ্ন থাকতে পারে। লক্ষ্য, একাগ্রতা ও ঐক্য থাকলে অনেক কিছুই সম্ভব। আমরা শুধু কেপ ভার্দের নয়, আফ্রিকার ফুটবল এবং বিশ্বের সব ছোট দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি।’
৫৬ বছর বয়সী এই কোচের বিশ্বাস ছিল, একদিন না একদিন কেপ ভার্দে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দেবে। তার ভাষায়, ‘আমি সবসময়ই বিশ্বাস করেছি, কেপ ভার্দে একসময় এমন একটি মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করবে। এখানে পৌঁছাতে আমাদের অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। খেলোয়াড়রা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছে, শৃঙ্খলা ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে। এসবের সমন্বয়ই আজকের এই সাফল্যের ভিত্তি।’
কোচের এই আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে খেলোয়াড়দের মধ্যেও। সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচসেরা মিডফিল্ডার দেরয় দুয়ার্তে বলেন, ‘প্রথমে আমরা এই অর্জন উদযাপন করব। এরপর পুরো মনোযোগ থাকবে আর্জেন্টিনা ম্যাচে। তারা কঠিন প্রতিপক্ষ, কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি—ফুটবলে যেকোনো কিছুই সম্ভব।
শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করা কেপ ভার্দে আগামী ৩ জুন মায়ামিতে মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জে নামার আগে আত্মবিশ্বাসই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।