গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় হানিট্র্যাপের মাধ্যমে মানুষকে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়ের অভিযোগে এক নারীসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের জিম্মিদশা থেকে এক যুবককে উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের সিংজানি (কালিতলা) এলাকায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—তালুককানুপুর ইউনিয়নের সুন্দইল এলাকার আবু সাঈদ লিমনের স্ত্রী রমীম আক্তার রিপা (২৫), কামারদহ ইউনিয়নের বকশীচর এলাকার মৃত নইবরের ছেলে মোস্তফা (৪৫) এবং গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের বালুভরা এলাকার মৃত রমজান আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম (৩৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এক যুবককে কৌশলে একটি ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছিল। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্তদের ঘরের ভেতরে আটকে রেখে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে গ্রেফতার করে।
উদ্ধার হওয়া যুবক, যিনি নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ করতে চাননি, জানান, রমীম আক্তার রিপা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তাকে বাড়িতে আসতে বলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে একটি কক্ষে নিয়ে গোপনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণের চেষ্টা করা হয়। তিনি বাধা দিলে মোস্তফা ও শহিদুল ঘরে ঢুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিনি উদ্ধার হন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে হানিট্র্যাপের ফাঁদ পেতে মানুষকে জিম্মি করে নির্যাতন ও অর্থ আদায় করতেন। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।