চার দিনের চীন সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে বিবেচিত বৈঠকে আগামীকাল (শুক্রবার) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠককে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেইজিংয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টা) দুই নেতার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। এ সময় বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরবেন সরকারপ্রধান।
মাহদী আমিন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই আলোচনা থেকে ইতিবাচক ফল আসবে, যা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে।
শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং চীনের জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন।
সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সফরসঙ্গীরা ঢাকার উদ্দেশে বেইজিং ত্যাগ করবেন।
সরকারপ্রধানের সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, এ কে এম শামসুল ইসলাম, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, মাহদী আমিনসহ মোট ২৪ জন প্রতিনিধি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। গত ২১ জুন তিনি মালয়েশিয়া সফরে যান। সেখানকার কর্মসূচি শেষে সোমবার চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দালিয়ানে পৌঁছান।
দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর বুধবার বিকেলে বেইজিংয়ে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্য দিয়েই শুরু হয় তার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর হলেও এর আগে ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে তিনি চীন সফর করেছিলেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।