মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন অনেক বাংলাদেশি। সেখানে গিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন, নির্যাতন ও নানা দুর্ভোগের শিকার হন। অবশেষে লিবিয়ার বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা আরও ১৭২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোর ৫টা ১৮ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, লিবিয়া সরকার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) যৌথ সহযোগিতায় তাদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যাবাসিতদের অধিকাংশই মানবপাচারকারী চক্রের প্ররোচনায় সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে গিয়ে তারা নানা ধরনের দুর্ভোগের শিকার হন। অনেকেই অপহরণ, নির্যাতন ও মানবিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার প্রতিনিধিরা তাদের স্বাগত জানান।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রত্যাবাসিতদের নিজেদের অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করার আহ্বান জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মতে, এসব অভিজ্ঞতা মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে সহায়ক হবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা প্রত্যাবাসিত প্রত্যেক বাংলাদেশিকে পথখরচা, খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী আবাসনের সুবিধা প্রদান করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।