বাংলাদেশ রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) অধীন ইপিজেডসমূহে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য একটি স্থায়ী ও টেকসই এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম (ইআইএস) প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইতালির তুরিনে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (আইটিসি)-তে সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালা শেষে অংশীজনরা একটি যৌথ বিবৃতি গ্রহণ করেন, যেখানে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বনির্ভর ও স্থায়ী ইআইএস-বেপজা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সম্মিলিত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
কর্মশালায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন। এছাড়া বেপজার নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন, অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস ও শিল্প সম্পর্ক) মো. নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া, আদমজী ইপিজেডের রেমি হোল্ডিংস লিমিটেড ও বিজিএমইএ সাব-কমিটির চেয়ারম্যান মিরান আলী, জার্মানির অসপিগ গ্রুপের প্রধান নির্বাহী হ্যান্স-হারম্যান অ্যাডলফ, স্পেনের ইরাম গ্রুপের পরিচালক কোরাল ইরাম গ্রেগরিও এবং আইএলও’র অ্যাকচুয়ারি ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। জার্মান উন্নয়ন সংস্থা (জিআইজেড) কর্মশালার আয়োজন ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান করে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বেপজা, আইএলও ও জিআইজেড-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত লেটার অব ইনটেন্টের মাধ্যমে ইপিজেডের তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য ইআইএস পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত এই প্রকল্পের আওতায় কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু, স্থায়ী অক্ষমতা কিংবা কর্মস্থলে যাতায়াতের পথে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে সুবিধা প্রদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৪৮ জন সুবিধাভোগী এই স্কিমের আওতায় সহায়তা পেয়েছেন বলে কর্মশালায় জানানো হয়।
তুরিনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় ইআইএস পাইলট প্রকল্পের বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক কাঠামো, অর্থায়ন ব্যবস্থা, আইনগত বিষয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি ইআইএস-বেপজাকে একটি স্থায়ী সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ইপিজেডে কর্মরত শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত স্থায়ী অক্ষমতা বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে চাকরির প্রথম দিন থেকেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এটি বেপজা ও আইএলও’র মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘দুই বছর মেয়াদি শ্রম সংস্কার কর্মপরিকল্পনা (২০২৫-২০২৭)’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।