কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র (বোর্ড খাতা) একজন ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে দিয়ে মূল্যায়ন করানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ছবি ও ভিডিও প্রকাশ পেলে অভিযোগটি জনসমক্ষে আসে। এরপর থেকেই অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব পান দেবিদ্বার উপজেলার আব্দুল্লাহপুর হাজী আমীর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাচ্চু মিয়া। তবে তিনি নিজে খাতা মূল্যায়ন না করে একজন এসএসসি পরীক্ষার্থীকে দিয়ে সেই কাজ করিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর দায়িত্ব। এ ধরনের কাজে নির্ধারিত পরীক্ষক ছাড়া অন্য কাউকে সম্পৃক্ত করা হলে ফলাফলের নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
এ বিষয়ে একাধিক অভিভাবক বলেন, বোর্ড পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে এমন অনিয়ম শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করতে পারে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক বাচ্চু মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।