খুলনায় টানা কয়েক দিনের মুষলধারে ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহর ও আশপাশের নিম্নাঞ্চলগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও প্লাবন পরিস্থিতি।
গত রবি ও সোমবার সকাল এবং সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টানা ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। বিশেষ করে দৌলতপুরসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
স্থানীয়দের মতে, মৌসুমী বায়ুর প্রভাব ও নিম্নচাপের কারণে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে দৌলতপুর উপশহরসহ বিভিন্ন এলাকার অবকাঠামো ও বসবাস ব্যবস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাতাসের গতি বৃদ্ধির কারণে কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
দৌলতপুর, দিয়ানা, পাবলা, গোয়ালখালী, কাশিপুর, কবীর বটতলা, মধ্য দাঙ্গা, গায়কুর, আড়ংঘাটা ও নয়াবাটি এলাকায় বহু কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করেছে।
অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল-নালা দখল ও দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ হিসেবে স্থানীয়রা দায়ী করছেন। সামান্য বৃষ্টিতেই দৌলতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি উপচে রাস্তাঘাট, বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হচ্ছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা খলিলুর রহমান সুমন বলেন, প্রতিনিয়ত পানি বাড়ছে। রান্নাবাড়া, চলাফেরা কিছুই ঠিকমতো করা যাচ্ছে না।
এদিকে কৃষকরাও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। মাঠের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে এবং অনেক মাছের ঘের ও পুকুর পানিতে ভেসে গেছে বলে জানিয়েছেন মৎস্যচাষিরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, স্কুল-কলেজ, বাজার ও অফিসপাড়ায় মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কমে গেছে। যশোর-খুলনা মহাসড়ক, দৌলতপুর-পাবলা-আমজাদ সড়ক ও বিএল কলেজ সড়কে যানবাহন চলাচলও কমে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, সড়কের ড্রেনগুলোর ওপর স্ল্যাব না থাকা এবং প্লাস্টিক ও বর্জ্যে ড্রেন ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি উপচে রাস্তায় উঠে যায়।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত দৌলতপুর এলাকায় বৃষ্টির পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করলেও আরও বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।