ফুটবল দুনিয়া যখন মেসির নতুন কীর্তিতে মুগ্ধ, ঠিক তখনই আলোচনায় উঠে এলেন রোনালদোও। বয়স, ফিটনেস আর পারফরম্যান্স নিয়ে খোলামেলা বক্তব্যে সবাইকে চমকে দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি।
তিনি জানিয়েছেন, ৩৮ বছর বয়সে তার ওজন পৌঁছেছিল ১২০ কেজিতে। মেসির দুর্দান্ত নৈপুণ্যে রাঙানো রাতেও তাই আলোচনার কেন্দ্রে জায়গা করে নিয়েছে রোনালদোর এই অকপট স্বীকারোক্তি, যা নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে ফুটবল তারকাদের ক্যারিয়ারের উত্থান-পতনের গল্প।
ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই জাদুকরী নৈপুণ্যে মেগা ইভেন্টটিতে প্রথম হ্যাটট্রিক করেছিলেন লিওনেল মেসি। এরপর ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও লুকোচুরি বন্ধ করে ‘মেসিকে ইতিহাসের সেরা’ মেনে নেওয়ার আহবান জানান। গতকাল (সোমবার) আরেকটি মেসিময় রাত দেখেছে ফুটবলবিশ্ব, এবার নাজারিও তার ৩৮ বছর বয়সের সঙ্গে তুলনায় নেমে পড়লেন!
আগামীকাল (২৪ জুন) ৩৯ বছর বয়স পূর্ণ হবে আর্জেন্টাইন মহাতারকার। তার আগেই তিনি নিজেকে ও ভক্তদের জন্মদিনের উপহার হিসেবে আরেকটি মোহময় পারফরম্যান্স উপহার দিলেন। অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। যেখানে দলের দুটি গোলই এসেছে প্রধান তারকা ও অধিনায়কের পা থেকে।
এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮–তে। তিনি জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। আলজেরিয়া ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে ক্লোসাকে ছুঁয়েছিলেন মেসি, আর অস্ট্রিয়া ম্যাচে ছাড়িয়ে গেলেন সবাইকে। তার এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ব্রাজিলিয়ান পূর্বসূরী রোনালদো ফেনোমেনো।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপে–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেন, ‘ফুটবলের দেবতাদের জন্য, এটি এমন একটি পরিসংখ্যান যা প্রমাণ করে সে (মেসি) সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। যদি কেউ বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য হয়, তাহলে সেটা অবশ্যই মেসি।’
আর্জেন্টাইন অধিনায়ক ৩৮ বছর বয়সের পড়ন্ত বেলা খেলছেন সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ। অন্যদিকে, রোনালদো নাজারিও’র ক্যারিয়ার ছিল ইনজুরিতে পূর্ণ। ফলে বেশ আগেভাগেই তাকে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় বলতে হয়। ৩৯ বছর পূর্ণ হতে যাওয়া মেসিকে দেখে সেটাই স্মরণ করলেন নাজারিও, ‘তার বয়স ৩৮ বছর, হে ঈশ্বর! ওই বয়সের আরও চার বছর আগেই আমি অবসর নিয়েছিলাম এবং আমার ওজন ছিল ১২০ কেজি।’
বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা রোনালদো নাজারিও নিজেও চারটি বিশ্বকাপে (যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৪, ফ্রান্স ১৯৯৮, কোরিয়া ও জাপান ২০০২ এবং জার্মানি ২০০৬) অংশ নিয়ে মোট ১৫টি গোল করেছিলেন। আলজেরিয়া ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার পথে প্রথমে নাজারিওকে ছাড়িয়ে যান মেসি, এরপর ক্লোসাকে ছুঁয়ে ফেলার পর উঠলেন সর্বোচ্চ চূঁড়ায়। অবশ্য জার্মান এই তারকাকে ছুঁয়েছেন কিলিয়ান এমবাপেও (১৬)। ফলে ফ্রান্স ও আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার রোমাঞ্চকর লড়াই দেখা যেতে পারে বিশ্বকাপের আসন্ন ম্যাচগুলোয়!