১১ কোটি টাকার বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য দেওয়া চারজন হলেন, নরসিংদীর কর কমিশনার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. সোহেল মিয়া, সোনারগাঁওয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মো. রিয়াজুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আসেফ আয়নান বখস এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক সিরাজুল হক।
দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, মামলাটিতে মোট ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।
দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, বেনজীর আহমেদ সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দিলেও তদন্তে তার নামে ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। বৈধ আয়ের উৎস ও ব্যয় বিবেচনায় তার নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ফলে ১১ কোটি ৪ লাখ টাকার বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের দাবি, এসব অর্থের প্রকৃত উৎস ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে।
এর আগে গত ৮ মার্চ আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে ৩ মে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। মামলায় গত ১৩ মে প্রথম সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।