বিশ্বকাপে প্রথম জয়ে মিসরের ইতিহাস

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

অবশেষে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয়ের দেখা পেল মিসর। ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসে মোহাম্মদ সালাহর দল নিউজিল্যান্ডকে ৩–১ গোলে হারিয়েছে।এবারের আগে

2026-06-22T09:30:53+00:00
2026-06-22T10:29:56+00:00
  মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
খেলা
বিশ্বকাপে প্রথম জয়ে মিসরের ইতিহাস
ক্রীড়া ডেস্ক
সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৯:৩০ এএম  আপডেট: ২২.০৬.২০২৬ ১০:২৯ এএম
সংগৃহীত ছবি
অবশেষে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয়ের দেখা পেল মিসর। ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসে মোহাম্মদ সালাহর দল নিউজিল্যান্ডকে ৩–১ গোলে হারিয়েছে।

এবারের আগে ১৯৩৪, ১৯৯০ ও ২০১৮ বিশ্বকাপে খেলেছিল মিসর। আজকের আগপর্যন্ত খেলা ৮ ম্যাচের কোনোটিতে তাদের জয় ছিল না।

আজও ম্যাচের শুরুতেই পিছিয়েই পড়েছিল মিসর। ১৫ মিনিটে ফিন সারম্যানের গোলে এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ২৪ মিনিটের মধ্যে তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় মিসর। ৫৮ মিনিটে মোস্তাফা জিকো, ৬৭ মিনিটে মোহাম্মদ সালাহ এবং ৮২ মিনিটে ত্রেজেগে গোল করেন।

এই জয়ের দারুণ উজ্জ্বল ছিলে মিশর ফুটবলের পোস্টার বয় ও সেরা তারকা সালাহ। একটি গোল করা ও আরেকটিতে সহায়তা ছাড়াও ম্যাচজুড়ে অসাধারণ খেলেছেন ৩৪ বছর বয়সী তারকা।

বিশ্বকাপের প্রথম জয়ের পথে ৯২ বছর আগের আরেকটি স্মৃতিও ফেরাল মিশর। সেই ১৯৩৪ সালে বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচে হাঙ্গেরির কাছে হারের পথে দুটি গোল করেছিল তারা।এরপর এবারই প্রথম এক ম্যাচে একাধিক গোল করতে পারল 'ফারাও' নামে পরিচিত দলটি।

এই জয়ে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে সালাহরা এখন গ্রুপের শীর্ষে। আগের ম্যাচে ইরানের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছিল নিউ জিল্যান্ড, বেলজিয়ামের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল মিশর।

ফেভারিট হিসেবেই ম্যাচটি শুরু করে মিশর। ভ্যানকুভারের বিসি প্লেসের গ্যালারিতেও ছিল তাদের সমর্থনে দর্শকের জোয়ার। লালের সেই সমুদ্র শান্ত হয়ে যায় দলের রক্ষণের এক অসতর্কতায়। টিম পেইনের কর্নারে হেড থেকে গোল করেন নিউ জিল্যান্ডের ডিফেন্ডার সারম্যান। তাকে মার্ক করছিল না কেউ।

ওই গোলের আগেও ম্যাচে দাপট বেশি ছিল নিউ জিল্যান্ডের। গোলের মিনিট দুয়েক আগেও সম্ভাবনা জাগিয়েছিল দারা। বাঁ দিক দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে রক্ষণভাগ ভেদ করে মার্কো স্টামেনিচ বল দেন ইলাইজা জাস্টকে। আগের ম্যাচে দুই গোল করা উইঙ্গার নিচু শটে গোল করার চেষ্টা করলেও কাছের পোস্টের পাশ দিয়ে বলটি বাইরে পাঠিয়ে দেন গোলকিপার মোস্তাফা শুবির।

২৭তম মিনিটে বিদ্যুৎগতির আক্রমণে বক্সের বাইরে বল ধরে শরীর ঘুরিয়ে বাঁকানো শট নেন ওমার মার্মুশ। নিউ জিল্যান্ডের গোলকিপার ম্যাক্স ক্রোকোম্ব বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তা রুখে দেন এবং দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় আলগা বলটি ধরতে গিয়েও ব্যর্থ হন। তবে বিপদ হয়নি।

ক্রমে ছন্দে ফিরতে থাকে মিশর। ৩২তম মিনিটে মার্মুশ শরীর বাঁকিয়ে বক্সে ঢুকে শট নেওয়ার মতো জায়গা প্রায় তৈরি করেই ফেলেছিলেন, কিন্তু এর আগেই সারম্যান সজোরে তার পায়ের আঙুল ছুঁয়ে বলটি বাইরে পাঠিয়ে দেন।

প্রথমার্ধে আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ চললেও খুব ভালো কোনো সুযোগ তার তৈরি হয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই দারুণ গতিতে খেলতে থাকে মিশর। ৪৭তম মিনিটে ডান দিক থেকে আসা একটি ক্রসে বল পেয়ে ঝলক দেখান সালাহ। বক্সের ভেতরে প্রথম স্পর্শেই তিনি বলটি নিয়ন্ত্রণে আনেন, কিন্তু দ্বিতীয় স্পর্শে সুবিধা করতে পারেননি, বল চলে যায় সরাসরি গোলকিপার ক্রোকোম্বের হাতে। এর পরপরই বক্সের বাঁ দিকে ফাউলের ​​পর মিশরের আরও একটি চমৎকার ফ্রি-কিক, কিন্তু মার্মুশ বলটি পোস্টের অনেক ওপর দিয়ে মেরে দেন।

ধারার অনেকটা বিপরীতেই ৫২তম মিনিটে আবার দারুণ এক সম্ভাবনা জাগায় নিউ জিল্যান্ড। ফ্রি কিক থেকে উড়ে আসা বলে চমৎকার হেড করেন ক্যালাম ম্যাককাওয়াট। দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে ফিস্ট করে মিশরকে বিপদমুক্ত করেন গোলকিপার শুবির।

৫৫তম মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে জিকোর শটে দারুণভা ব্লক করেন সারম্যান। তবে মিশর যেভাবে চেপে ধরছিল, তাতে গোলের আভাস মিলছিলই। সেই গোল ধরা দেয় ৫৮তম মিনিটে।

মোহামেদ হেনির চমৎকার ক্রসে বক্সের ভেতর ফাঁকায় থাকা জিকো জোরাল হেড করেন। গোলকিপার ক্রকোম্বের হাতে লেগে বল জড়ায় জালে। গোলকিপার হয়তো আরেকটু ভালো করতে পারতেন। তবে দায়টা বেশি নিউ জিল্যান্ডের রক্ষণভাগেরই।

গোলের পর উজ্জীবিত মিশর আরও দাপটে খেলতে থাকে। নিউ জিল্যান্ডকে মনে হচ্ছিল অবসন্ন। আরেকটি গোল ধরা দেয় দ্রুতই। নান্দনিক এক মুভ থেকে সেটি ছিল দর্শনীয় গোল। ডান প্রান্ত থেকে সালাহ দুজনের মধ্য দিয়ে বক্সে ঢুকে জিকোর সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে তিনজনের মধ্য থেকে চমৎকার গড়ানো শটে পরাস্ত করেন গোলকিপারকে।

২০১৮ বিশ্বকাপে দুটি গোল করলেও দলের জয় দেখতে পাননি সালাহ। এবার তার গোলেই জয়ের পথে এগিয়ে গেল মিশর।

৭৬তম মিনিটে জিকো ও মার্মুশকে তুলে নিয়ে হামজা আব্দেলকারিম ও ত্রেজেগেকে নামান মিশর কোচ। ফল মিলতে খুব বেশি সময় লাগেনি। ৮২তম মিনিটে সালাহর কর্নার থেকে নিচু হয়ে হেডে গোল করেন ত্রেজেগে। তাকেও ফাঁকায় রেখেছিল নিউ জিল্যান্ডের রক্ষণভাগ।

যোগ করা সময়ে দুই দলেরই দারুণ কিছু আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। আব্দেলকারিমের হেড শুয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন ক্রোকোম্ব। চতুর্থ গোলের সুবর্ণ সুযোগ পায় মিশর। একজনকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে গোলকিপার ক্রোকোম্বকেও ডজ দিয়ে এগিয়ে যান জিজো। কিন্তু সময়মতো গোলে শট নিতে পারেননি। একটু সামলে দ্বিতীয় দফায় শট নেন। ততক্ষণে ক্রোকোম্ব ছুটে এসে শুয়ে পড়ে ব্লক করে দেন। একদম শেষ সময়ে স্টামেনিচের শট একজনের পায়ে লেগে গোলে ঢোকার মুখে ঠেকিয়ে দেন শুবির।

এর পরপরই মিশরকে উল্লাসে ভাসায় রেফারির শেষ বাঁশি।

হেরে গেলেও নিউ জিল্যান্ডের সম্ভানা শেষ হয়ে যায়নি। গ্রুপের পরের ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। প্রথমবার গ্রুপ পর্ব উতরানো অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলা মিশরের পরের প্রতিপক্ষ ইরান।


Loading...
Loading...

খেলা- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: