দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘রাস্তায় ভিক্ষা করা মানুষ থেকে শুরু করে এসি কক্ষে বসবাসকারী মানুষ, এমনকি হুইলচেয়ারে থাকা শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের প্রয়োজন ও অধিকারও বাজেটে গুরুত্ব পেয়েছে।’ বাজেটে কোনো জনগোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া বা অবহেলা করা হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বোরো ও আমন ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পেতে জনগণকে কোনো রাজনৈতিক নেতা বা সরকারি কর্মকর্তার পেছনে ঘুরতে হবে না। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে।
জনগণের উদ্দেশ্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, আপনারা ভোট দিয়ে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনাদের সেবা করাই আমাদের প্রধান কাজ। বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করলেও তিনি বলেন, সকল নাগরিক সমান সুযোগ-সুবিধা পাবেন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হবে।
হিলি স্থলবন্দরের সড়কের বেহাল অবস্থা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুত সড়ক উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জর্জ মিত্র চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আর্জেনা বেগম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেজবাহুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মুনতাসির মামুন, হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় তিন হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৩৩টি পরিবারের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল এবং ৫০টি পরিবারের মাঝে ১২টি করে ঢেউটিন ও নগদ ৩ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ১২০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবারের মাঝে ২৫ কেজি করে ছাগলের দানাদার খাদ্য বিতরণ করা হয়।