১৯৩০ সালে মাত্র ১৩টি দল এবং ১৮টি ম্যাচ নিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া ফিফা বিশ্বকাপ। নানা পথ ঘুরে, নানা অলি-গলি মাড়িয়ে, অজুত-নিযুত সময় পেরিয়ে বিশ্বকাপ এখন সহস্র ম্যাচের দোরগোড়ায়। ইতিহাসে এটি হতে যাচ্ছে এক বিশেষ অধ্যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টুর্নামেন্টের পরিসর বেড়ে ৪৮ দলের সংস্করণে পৌঁছেছে ২০২৬ আসরে। ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক তৈরি হতে যাচ্ছে এবারের বিশ্বকাপ আসর। টুর্নামেন্টের ১০০০তম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথম আসরের উদ্বোধনী দিনে একই সাথে দুটি ম্যাচ মাঠে গড়ায়। একটিতে ফ্রান্স মেক্সিকোকে ৪-১ গোলে পরাজিত করে এবং অন্যটিতে যুক্তরাষ্ট্র বেলজিয়ামকে ৩-০ গোলে হারায়।
রবিবার (২১ জুন) মেক্সিকোর মন্টেরির স্টেডিয়ামে, যেখানে গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচে মুখোমুখি হবে জাপান ও তিউনিসিয়া।
এই ঐতিহাসিক ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে এস্তাদিও বিবিভিএ মন্টেরে। ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন রোমানিয়ার রেফারি ইস্তভান কোভাচ। বিশেষ এই উপলক্ষে ম্যাচ অফিসিয়ালদের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ জার্সি, যেখানে থাকবে সোনালি নকশা এবং ‘১০০০ মেলান’ লেখা প্যাচ।
ফিফার রেফারিজ কমিটির চেয়ারম্যান পিয়েরলুইজি কলিনা বলেন, এই ম্যাচ পরিচালনা করা নিঃসন্দেহে একজন রেফারির জন্য বড় সম্মান এবং বিশেষ অর্জন। তিনি আরও জানান, বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১০০০তম ম্যাচ হিসেবে এটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে।

দুই দলের অতীত মুখোমুখি লড়াইও এই ম্যাচকে বাড়তি আকর্ষণ দিচ্ছে। ২০০২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে জাপান ও তিউনিসিয়া একবার মুখোমুখি হয়েছিল। জাপান ১৯৯৮ সাল থেকে নিয়মিত বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে এবং একাধিকবার শেষ ষোলোতে পৌঁছেছে। অন্যদিকে তিউনিসিয়া প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেয় ১৯৭৮ সালে এবং এখনো গ্রুপ পর্ব পেরোনোর অপেক্ষায় রয়েছে।
শিয়া ও আফ্রিকার এই দুই দল শুধু গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচই খেলবে না, বরং ফুটবলের বৈশ্বিক বিস্তার ও আধুনিক যুগে বিশ্বকাপের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রেরও প্রতীক হয়ে উঠবে।
তিউনিসিয়ার অধিনায়ক এলিয়েস স্কিরি বলেন, বিশ্বকাপের ১,০০০তম ম্যাচে অংশ নেওয়া সত্যিই প্রতীকী একটি মুহূর্ত। এই প্রতিযোগিতার ইতিহাস, সেরা ম্যাচ ও সেরা খেলোয়াড়দের কথা মনে করিয়ে দেয় এটি ।
জাপানের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু বলেন, এত দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ইতিহাসের টুর্নামেন্টে ১,০০০তম ম্যাচে অংশ নিতে পারা আমাদের জন্য বড় সম্মান। এটি এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করারও গর্বের বিষয়।
এই ম্যাচ শুধু গ্রুপ পর্বের লড়াই নয়, বরং বিশ্বকাপ ইতিহাসের এক হাজারতম অধ্যায়ের সাক্ষী হয়ে থাকবে ফুটবল বিশ্ব।