আইভরি কোস্টের তরুণ ফুটবল সেনসেশন ইয়ান ডিওমান্দে শনিবার দিবাগত রাত ২টায় জার্মানির বিপক্ষে তার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ম্যাচে মাঠে নামবেন। ম্যাচটিতে বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের নজর থাকবে তার ওপর।
সবাই জানতে চাইছে—তিনি কতটা ভালো খেলেন? শক্তিশালী জার্মানির বিপক্ষে কি তিনি বড় কিছু করে দেখাতে পারবেন? তার গতি ও ড্রিবলিং কি ভবিষ্যতে প্রিমিয়ার লিগের মতো বড় লিগে মানিয়ে নিতে পারবে?
কিন্তু ডিওমান্দের মাথায় এখন অন্য কিছু—তার ছোট বোন রক্সান। গত বছর মাত্র ১৫ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়, যখন তার পানীয়তে বিষ মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এই কষ্টই এখন তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। সম্প্রতি ‘দ্য প্লেয়ার্স ট্রিবিউন’-এ প্রকাশিত এক আবেগঘন চিঠিতে তিনি লিখেছেন— ‘ফুটবল মাঠে আমি যা করি, সব তোমার জন্য।’
তিনি আরও লেখেন, ফুটবল তার কাছে শুধু খেলা নয়, বরং একটি মঞ্চ, যেখানে তিনি বোনের স্বপ্ন আর প্রতিভাকে বিশ্বকে দেখাতে চান। ‘আমি যখনই গোল করি, সবাইকে তোমার নাম জানাব,’ লিখেছেন ডিওমান্দে। ‘আমি চাই মানুষ তোমাকে মনে রাখুক।’
বোনের মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও তিনি জানান, সেই কষ্টকে তিনি শক্তিতে পরিণত করেছেন এবং কঠোর পরিশ্রম করছেন তাদের স্বপ্ন পূরণের জন্য।
‘গোল্ডেন বয়’ ডিওমান্দে
স্পেনের ক্লাব লেগানেসে খেলার সময় পরিবার থেকে দূরে থাকলেও পরে জার্মানিতে গিয়ে নিজের প্রতিভা আরও বড় পরিসরে দেখাতে সক্ষম হন তিনি। এখন বিশ্বকাপেও ভালো কিছু করার লক্ষ্য তার।
তার মতে, এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানসিকতা। আইভরি কোস্টের ওপর খুব বেশি চাপ নেই, তাই তারা নির্ভার হয়ে খেলতে পারছে।
আইভরি কোস্টের নতুন আশা
আইভরি কোস্ট আগে তিনবার বিশ্বকাপ খেলেছে (২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪), কিন্তু কখনোই গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি। সেই দলে ছিল ইয়ায়া তোরে ও দিদিয়ের দ্রগবার মতো তারকা।
এবার প্রথম ম্যাচে জয়ের পর দলটি আত্মবিশ্বাসী। অনেকেই মনে করছেন, ডিওমান্দে ভবিষ্যতে দলের নেতৃত্ব দিতে পারেন।
একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক বলেন, তিনি খুব সাধারণ পরিবেশ থেকে উঠে এসেছেন এবং ছোটবেলা থেকেই তার বোনের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। বোনের মৃত্যু তার জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা।
মাঠে তার শক্তি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ডিওমান্দে একজন দ্রুতগতির উইঙ্গার, যিনি ড্রিবলিংয়ে অত্যন্ত দক্ষ। গত মৌসুমে বুন্ডেসলিগায় তিনি উইঙ্গারদের মধ্যে সফল ড্রিবল ও বল দখলে শীর্ষে ছিলেন।
তার খেলার ধরন এতটাই প্রভাবশালী যে পিএসজি ও লিভারপুলের মতো বড় ক্লাবগুলোও তাকে দলে নেওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে।
কমেন্টেটররা বলেন, তিনি সবসময় বল নিয়ে আক্রমণ করতে চান, দায়িত্ব নিতে ভয় পান না এবং রক্ষণেও সমান পরিশ্রম করেন।
তিনি ছোটবেলায় আইভরি কোস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফুটবল শুরু করেন। এরপর বিভিন্ন ক্লাবে ট্রায়াল দিলেও শেষ পর্যন্ত লেগানেস তাকে দলে নেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এত কম বয়সেই তার খেলা দেখে বোঝা যায়—তিনি ভবিষ্যতে ইউরোপিয়ান ফুটবলের বড় তারকা হতে পারেন।
তথ্য সূত্র: বিবিসি স্পোর্ট