ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। অনৈতিক আচরণ ও দায়িত্ববহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের পর আবারও আলোচনায় এসেছে চিত্রনায়িকা পরীমণিকে ঘিরে ২০২১ সালের বিতর্কিত ঘটনাটি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কর্মকালীন সময়ে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়েও সরকারি দায়িত্বের বাইরে গিয়ে নৈতিকতা বহির্ভূত সম্পর্ক স্থাপনসহ বিভিন্ন অভিযোগ তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে।
সাকলায়েন তখন ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) গুলশান জোনে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং পরীমণির করা একটি ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত তদারকির দায়িত্বে ছিলেন।
২০২১ সালের ৯ জুন সাভারের ঢাকা বোট ক্লাবে পরীমণির সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর তিনি মামলা দায়ের করেন। তদন্ত চলাকালে তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা সাকলায়েনের সঙ্গে পরীমণির ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ সামনে আসে। এরপর তাকে তদন্ত কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করা হয় এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তদন্তও শুরু হয়।
পরবর্তীতে সাকলায়েনকে ডিবি থেকে সরানোসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হয়।
ঘটনার সময় এবং পরবর্তীতে একাধিক সাক্ষাৎকারে পরীমণি বলেন, সাকলায়েনকে ঘিরে যেসব অভিযোগ এসেছে তা পুরোপুরি ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে হয়েছে—এমনটি তিনি বিশ্বাস করেন না।
তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সাকলায়েনের জন্য খারাপ লাগছে। তিনি ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হতে পারেন।
পরীমণির মতে, পুরো ঘটনাটি অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে এবং এতে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্তের পর সেই পুরনো বিতর্ক আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। অনেকেই ২০২১ সালের মামলার তদন্ত, প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং পরীমণির মন্তব্য নতুন করে সামনে আনছেন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের পুরনো অবস্থান ও বক্তব্য আবারও জনপরিসরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।