যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি সইয়ের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজের চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে টানা পতন দেখা যাচ্ছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ০.৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৩১ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪৬ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৬ দশমিক ১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগের দিন, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেলের দাম মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজের চলাচল শুরু হওয়াকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব জাহাজের মধ্যে সৌদি আরবের পতাকাবাহী তিনটি ট্যাঙ্কারও ছিল, যেগুলোতে প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করা হচ্ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা ৮ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল পুনরায় বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে সরবরাহ আরও বাড়বে।
বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেছেন, ব্যবসায়ীরা এখনো নিশ্চিত হতে চাইছেন যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে কি না। নিয়মিত চলাচল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাজারে সতর্কতা বজায় থাকবে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। বিশ্লেষকদের ধারণা, চুক্তি কার্যকর থাকলে আগামী কয়েক মাসে এই রুটের বাণিজ্য পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোও রপ্তানি কার্যক্রম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, যুদ্ধকালীন জরুরি বিধিনিষেধ ইতোমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে।
ইরাকের তেলমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ জানিয়েছেন, দেশটির তেলক্ষেত্রগুলো ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রস্তুত এবং আগের সক্ষমতায় ফেরার প্রক্রিয়া চলছে।
তবে ইসরায়েল এখনও লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান শান্তি চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে কতটা স্থিতিশীল থাকবে, তা নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।