বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পাকিস্তান। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার দৈনিক দ্য মর্নিংকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর কর্মকর্তা কমোডর ওমর ফারুক।
বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) ওই সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়া টুডে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি চীনে কমিশনিং হওয়া ‘হাঙ্গর-শ্রেণি’ সাবমেরিন করাচিতে পৌঁছানোর পর পাকিস্তান নৌবাহিনীর শীর্ষ পর্যায় বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়ানোর কথা ভাবছে।
১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানি সাবমেরিন পিএনএস হ্যাঙ্গার ভারতের যুদ্ধজাহাজ আইএনএস খুকরি ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনার ইতিহাস আবারও আলোচনায় এসেছে। প্রায় ৫৫ বছর পর একই নামের সাবমেরিন ঘিরে নতুন করে কৌশলগত আলোচনা শুরু হয়েছে।
পাকিস্তান নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, নতুন সাবমেরিনগুলো পাকিস্তানকে আরব সাগরের বাইরে গিয়ে বঙ্গোপসাগরেও উপস্থিত থাকার সক্ষমতা দিতে পারে। কর্মকর্তারা এই হাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিনকে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মোট আটটি সাবমেরিন যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গোপসাগর দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অঞ্চল। ভারতের পূর্ব নৌ কমান্ড এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান এই অঞ্চলের গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের উপকূলীয় অর্থনীতি ও সমুদ্র বাণিজ্যের জন্যও বঙ্গোপসাগর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক করিডর।
এ অঞ্চলে ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমারসহ একাধিক দেশ যুক্ত থাকায় এটি ইন্দো-প্যাসিফিক ভূরাজনীতির অন্যতম সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো দেশ যদি সত্যিই বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘ দূরত্বের সাবমেরিন মোতায়েন সক্ষমতা বাড়ায়, তাহলে আঞ্চলিক নৌ-প্রতিযোগিতা আরও জোরালো হতে পারে।