ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার দাবি করেছেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাস-সংশ্লিষ্ট তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নজরদারি চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে উগ্রপন্থি প্রভাব বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পাকিস্তানের আঞ্চলিক কূটনীতিতে ভূমিকা নিয়ে ইসরায়েলের আস্থা সীমিত এবং ইসলামাবাদের অবস্থান সতর্কতার সঙ্গে দেখা হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার কিছু প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে ইসরায়েলের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন।
রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু দেশ এমন শান্তি পরিস্থিতি কল্পনা করে যেখানে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকবে না। এমন মনোভাবও তিনি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।
তিনি কেবল পাকিস্তান নয়, কাতারের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেন এবং বলেন, ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে সংগঠনটির সম্ভাব্য কার্যক্রম ইসরায়েল পর্যবেক্ষণ করছে।
আজারের দাবি, উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো ওই হামলাকে অন্য জায়গায় একই ধরনের কর্মকাণ্ডের “মডেল” হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, এ ধরনের ঝুঁকি আঞ্চলিক সরকারগুলোর জন্যও উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত।
তিনি আরও জানান, এসব নিরাপত্তা উদ্বেগ ইসরায়েল ভারতের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছে এবং সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়া পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কিছু অংশে ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য উৎসাহিত করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তার মতে, এ ধরনের অবস্থান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও তিনি বলেন, যেকোনো সমঝোতায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য হুমকির বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় রাখা জরুরি বলে ইসরায়েল মনে করে।