বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কথিত ‘পুশ ইন’ ইস্যুর সমাধান দুই দেশের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমেই হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মানুষের মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক।
ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক মনোযোগ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, লেবানন, দক্ষিণ সুদান ও হাইতির মতো ইস্যুর দিকে থাকলেও বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে শত শত নারী ও শিশুর জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অনেক শিশু ক্ষুধায় কাঁদছে এবং নারীরা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবের অবস্থান জানতে চান তিনি।
জবাবে স্টিফেন ডুজারিক বলেন, আমি মনে করি, বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। একই সঙ্গে এতে মানুষের মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রতি পূর্ণ সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে ব্রিফিংয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গেও প্রশ্ন করা হয়। এক সাংবাদিক জানতে চান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (জিএ) নবনির্বাচিত সভাপতি আগে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রোহিঙ্গাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে জাতিসংঘ মহাসচিবও অতীতে শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন। ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে নতুন কোনো অগ্রগতির আশা করা যায় কি না।
জবাবে ডুজারিক বলেন, সাধারণ পরিষদের সভাপতির মূল দায়িত্ব হলো সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করা। মহাসচিব ও সাধারণ পরিষদের সভাপতির মধ্যে যে যোগাযোগ হবে, তা মূলত সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমকেন্দ্রিক হবে। তবে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সাম্প্রতিক পুশ ইন অভিযোগ এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলমান থাকলেও এসব সমস্যার সমাধানে সংলাপ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে জাতিসংঘ।