সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে সচিব কমিটি। এতে নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা ও প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, সচিব কমিটির পর্যবেক্ষণ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রস্তাব এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো সম্পর্কিত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেলে মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। তবে বর্তমানে মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় দেওয়া বিশেষ সুবিধা (ইনসেনটিভ) নতুন বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ফলে আলাদাভাবে এ সুবিধা আর থাকবে না।
বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। নতুন কাঠামোয় এই সুবিধা মূল বেতনের সঙ্গে একীভূত হওয়ায় কার্যকর বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কমবে। হিসাব অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে গড় বৃদ্ধি দাঁড়াবে প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ শতাংশ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন ভাতা ও অস্থায়ী সুবিধা একীভূত করে মূল বেতন বাড়ালে অবসরকালীন সুবিধা যেমন পেনশন ও গ্র্যাচুইটিও বৃদ্ধি পাবে।
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায়।
বাজেট অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের বেতন খাতে ১৪ হাজার ৪ কোটি টাকা, কর্মচারীদের জন্য ৩০ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা এবং ভাতার জন্য ৪৫ হাজার ১২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জনপ্রশাসন খাতে মোট বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা বেশি।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, এই অতিরিক্ত বরাদ্দের বড় অংশ থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা নবম পে স্কেলের আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আরও কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী বৈঠক আগামী ২৪ জুন হতে পারে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। ফলে বর্ধিত বেতনের অর্থ সরকারি কর্মচারীরা অক্টোবর মাসের দিকে হাতে পেতে পারেন।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন।