ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থকদের জন্য এসেছে দারুণ সুখবর। দীর্ঘদিন চোটে ভোগার পর অবশেষে দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরেছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ব্রাজিল দলের অনুশীলন ক্যাম্পে বুধবার (১৭ জুন) তার উপস্থিতি স্বস্তি ফিরিয়েছে কোচিং স্টাফ, সতীর্থ এবং সমর্থকদের মধ্যে।
গত শুক্রবার হাইতির বিপক্ষে ‘সি’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি যখন ২৬ সদস্যের দল নিয়ে অনুশীলনে নামেন, তখন সবার নজর ছিল নেইমারের দিকে। শুরুতে সতীর্থদের সঙ্গে হালকা ওয়ার্ম-আপ করার পর তিনি মূল দলের অনুশীলনেও অংশ নেন।
এর আগে মঙ্গলবার মাঠে ফিরলেও তিনি একাই অনুশীলন করেছিলেন। বল নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করাই ছিল তার সেদিনের কর্মসূচি। তবে বুধবারের দৃশ্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সতীর্থদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অনুশীলনে অংশ নেওয়ায় পুরো শিবিরে ইতিবাচক আবহ তৈরি হয়। তাকে ঘিরে সতীর্থদের উচ্ছ্বাস ও ভালোবাসাও ছিল চোখে পড়ার মতো।
কয়েকদিন আগেও পরিস্থিতি এতটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। সোমবার পর্যন্ত তাকে মেডিকেল পর্যবেক্ষণে থাকতে হয়েছিল। মঙ্গলবার এক মাস পর প্রথমবারের মতো মাঠে নেমে সীমিত পরিসরে দৌড়ান। আর বুধবার গতি বাড়ানো, হঠাৎ থেমে যাওয়া ও দিক পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফিটনেস অনুশীলনও সম্পন্ন করেন।
উল্লেখ্য, ঠিক এক মাস আগে সান্তোসের হয়ে কুরিতিবার বিপক্ষে ম্যাচে ডান পায়ের কাফে চোট পান নেইমার। সেই চোটের কারণেই তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল।
তবে ব্রাজিল শিবির এখনই কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। কোচ আনচেলত্তি নেইমারকে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর্যাপ্ত সময় দিতে আগ্রহী। বিশ্বকাপের মতো বড় লক্ষ্য সামনে রেখে তার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চোট থেকে ফেরার এই সময়ে নেইমার নিয়মিত জিম ও রিহ্যাব সেশনে অংশ নিয়েছেন, যাতে শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখা যায়। বর্তমানে তার ম্যাচ ফিটনেস ও সহনশীলতা মূল্যায়নের কাজ চলছে।
হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিল ৪-২-৪ অথবা ৪-৪-২ ফর্মেশনে খেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে। বৃহস্পতিবারের অনুশীলন শেষে চূড়ান্ত কৌশল নির্ধারণ করবেন কোচ আনচেলত্তি।
যদিও হাইতির বিপক্ষে নেইমারের মাঠে নামার সম্ভাবনা এখনও খুবই কম। মূল দলের সঙ্গে মাত্র ১০ মিনিট অনুশীলনের পর তিনি আবার ব্যক্তিগত পুনর্বাসন কার্যক্রমে ফিরে যান। ম্যাচ ফিটনেস অর্জনে তার আরও কিছু সময় প্রয়োজন।
তবুও ব্রাজিল শিবিরের জন্য সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো—নেইমার আবার মাঠে ফিরেছেন এবং দলের সঙ্গে কাজ শুরু করেছেন। তিনি খেলুন বা না খেলুন, তার উপস্থিতিই যেন দলের আত্মবিশ্বাস ও মনোবলে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে।