বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) পরিদর্শন শেষে দেশের ক্রীড়া উন্নয়ন, তরুণ প্রতিভা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্যের সম্ভাবনা নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বুধবার (১৭ জুন) রাতে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ফুটবল, ক্রিকেট, জুডো, অ্যাথলেটিক্সসহ বিভিন্ন ক্রীড়া শাখায় বাংলাদেশের অসংখ্য জাতীয় ক্রীড়াবিদ বিকেএসপি থেকে উঠে এসেছেন। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি দেশের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
জাইমা রহমান লিখেছেন, বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, আনন্দ এবং চারিত্রিক গুণাবলি তাকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। তিনি বলেন, শিক্ষক, কোচ, চিকিৎসক ও কর্মীরা নিষ্ঠার সঙ্গে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার সর্বোচ্চ সামর্থ্য অর্জনে সহায়তা করছেন। প্রতিষ্ঠানের আন্তরিক ও সহায়ক পরিবেশে ভবিষ্যতের ক্রীড়াতারকারা স্বপ্ন দেখার এবং নিজেদের বিকশিত করার সুযোগ পাচ্ছে।
তবে বিকেএসপি সফরের সময় একটি প্রশ্ন বারবার তার মনে এসেছে—এত প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ এবং নিবেদিতপ্রাণ কোচ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ কেন আরও বেশি আন্তর্জাতিক পদক ও সাফল্য অর্জন করতে পারছে না?
এর উত্তরে তিনি বলেন, বিষয়টির কোনো সহজ ব্যাখ্যা নেই। তবে তার মতে, বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের আরও বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ, বিদেশে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প এবং বিভিন্ন পরিবেশে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।
জাইমা রহমানের ভাষায়, দেশের অ্যাথলেটরা নিজেদের প্রমাণ করতে প্রস্তুত। তারা বিশ্বের সেরাদের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়, বাংলাদেশের পতাকা বহন করতে চায় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে আগ্রহী।
তিনি মনে করেন, তরুণ ক্রীড়াবিদদের বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যেতে হলে প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন, স্পোর্টস সায়েন্স, পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ক্রীড়া শাখার জন্য পৃথক উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষা ও খেলাধুলার সমন্বয়ের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন জাইমা রহমান। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থীকে যেন একাডেমিক শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার মধ্যে একটি বেছে নিতে না হয়। বরং উভয় ক্ষেত্রেই সমানভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, উচ্চমানের শিক্ষা বজায় রেখেও ক্রীড়াবিদ-কেন্দ্রিক উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। বাংলাদেশেরও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি কার্যকর মডেল তৈরি করা উচিত।
পোস্টের শেষাংশে বিকেএসপির শিক্ষক, কোচ, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি তাকে একজন গর্বিত বাংলাদেশি হওয়ার আরও একটি কারণ উপহার দিয়েছে।